২০১২ সালে কারন জোহরের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করেছিলেন আলিয়া ভাট। প্রথম ছবিতেই নজর কাড়লেও, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি প্রমাণ করেছেন—তিনি কেবল স্টার কিড নন, একজন শক্তিশালী অভিনেত্রী। গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ‘হাইওয়ে’, ‘রাজি’, ‘গালি বয়’, ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ থেকে শুরু করে একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করেছেন তিনি। বড় বাজেটের ছবি, আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট এবং নামী ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনী দূত হিসেবে আলিয়ার ব্যস্ততা বরাবরই ছিল আকাশচুম্বী।
তবে তুঙ্গে থাকা সেই ক্যারিয়ারের মাঝেই এবার ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানালেন আলিয়া। মা হওয়ার পর তাঁর জীবনের অগ্রাধিকার যে বদলে গেছে, তা আর গোপন রাখেননি তিনি। কন্যা রাহার জন্মের পর থেকেই আলিয়ার জীবন নতুন এক ছন্দে বাঁধা পড়েছে, যেখানে কাজের পাশাপাশি মাতৃত্বের দায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আলিয়া ভাট জানান, এখন থেকে বছরে একটির বেশি সিনেমায় কাজ করবেন না তিনি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটাই কারণ—মেয়ে রাহাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া। আলিয়ার কথায়, আগে তিনি একসঙ্গে দুই বা তিনটি ছবির কাজ সামলাতে পারতেন, কিন্তু এখন আর তা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমি ক্যারিয়ারকে কখনোই কোনো নির্দিষ্ট মাইলফলকের দৃষ্টিতে দেখি না। কাজের সংখ্যা নয়, কাজের মানটাই এখন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
আলিয়া আরও জানান, মা হওয়ার পর তাঁর কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। আগে দ্রুত কাজ শেষ করে পরের প্রজেক্টে ঝাঁপিয়ে পড়ার মানসিকতা থাকলেও, এখন যে কাজটি করবেন সেখানে শতভাগ মনোযোগ দিতে চান। তাঁর ভাষায়, “যখন যে কাজটি করব, সেটাতে পুরোপুরি নিজেকে দিতে চাই। কারণ এখন আমার জীবনে আরেকটি বড় দায়িত্ব আছে।”
মাতৃত্ব আলিয়াকে শুধু মানসিকভাবেই নয়, শারীরিক ও পেশাগত দিক থেকেও নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে অ্যাকশন ঘরানার সিনেমায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে নতুন করে আত্মবিশ্বাসী করেছে। হলিউডের ‘হার্ট অব স্টোন’ এবং বলিউডের ‘আলফা’ সিনেমায় অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয়ের প্রসঙ্গে আলিয়া বলেন, “মা হওয়ার পর অ্যাকশন দৃশ্যগুলো করতে গিয়ে বুঝেছি, আমার শরীর এখনো কতটা ফিট। ‘আলফা’ আমাকে এমন কিছু সুযোগ করে দিয়েছে, যা আগে কখনো পাইনি।”
আলিয়া ভাটের এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও নিজের সন্তানের জন্য সময় বের করে নেওয়া, কাজের গতি কমিয়ে জীবনের ভারসাম্য খোঁজার এই মানসিকতা আধুনিক কর্মজীবী নারীদের কাছে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। আলিয়ার মতে, সফল হওয়া মানেই নিজেকে নিঃশেষ করে ফেলা নয়—বরং নিজের জীবনকে উপভোগ করেই এগিয়ে যাওয়াই আসল সাফল্য।
বিথী রানী মণ্ডল/










