চিত্রনায়িকা অধরা খান বর্তমানে তাঁর ক্যারিয়ারের এক নতুন এবং সম্ভাবনাময় অধ্যায় পার করছেন সুদূর কানাডায়। দীর্ঘ দিন ধরে প্রবাসে থাকলেও অভিনয়ের জগৎ থেকে তিনি মোটেও দূরে নেই; বরং দেশ এবং বিদেশের কর্মক্ষেত্রের মধ্যে এক চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়ে নিজের ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করছেন কানাডায়।
কানাডায় অবস্থানের সুবাদে অধরা খান সেখানকার চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন শিল্পের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়েছেন। নিজেকে কেবল দেশীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মেলে ধরছেন তিনি। সম্প্রতি একটি নামী ওয়াটার পিউরিফায়ার কোম্পানির বিজ্ঞাপনে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছে। এটি কেবল শুরু মাত্র; নতুন বছরের জানুয়ারি মাসেই তিনি আরও বেশ কিছু নতুন বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অংশ নিতে যাচ্ছেন। এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাগুলো তার পেশাদারিত্বে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
অধরার বর্তমান কাজের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ফোর্টি এইট আওয়ার্স’ নামক একটি অভিনব প্রোজেক্ট। এটি একটি সৃজনশীল চ্যালেঞ্জ, যেখানে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট লেখা, শুটিং এবং সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন করা হয়। অধরা মনে করেন, এই ধরনের দ্রুতগতির এবং মানসম্মত কাজ তাঁর অভিনয় দক্ষতা ও সময়জ্ঞানকে আরও তীক্ষ্ণ করবে, যা ভবিষ্যতে বড় পর্দায় তার পারফরম্যান্সকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিদেশে ব্যস্ত থাকলেও দেশের দর্শকদের ভুলে যাননি অধরা। বাংলাদেশে তার অভিনীত দুটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে:
দখিন দুয়ার: পরিচালনা করেছেন প্রখ্যাত নির্মাতা সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড।
ঋতুকামিনী: পরিচালনা করেছেন জাহিদ হোসেন।
ইতোমধ্যেই এই সিনেমা দুটির ডাবিং ও কারিগরি কাজ শেষ হয়েছে। সিনেমাগুলো মুক্তি পেলে দেশের বড় পর্দায় অধরাকে আবার নতুন রূপে দেখা যাবে।
অধরা খান কেবল বর্তমান কাজ নিয়ে তৃপ্ত নন, বরং ভবিষ্যতের জন্য বড় পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। খুব শীঘ্রই তিনি নতুন তিনটি চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে একটি চলচ্চিত্রের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত, যার বড় একটি অংশের শুটিং হবে ইউরোপের বিভিন্ন লোকেশনে। যদিও সহশিল্পী বা গল্পের বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করতে নারাজ এই অভিনেত্রী, তবে তিনি জানিয়েছেন যে চমক থাকছে ভক্তদের জন্য।
দীর্ঘদিন দেশে না থাকার কারণ হিসেবে অধরা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমানে দেশের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ কিছুটা সীমিত থাকায় তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে বিদেশে বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও টেকনিক্যাল কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি যে সুযোগের আশা করেছিলাম, বাস্তবে তার চেয়েও ভালো সুযোগ পাচ্ছি।” এই অভিজ্ঞতা তাঁকে একজন পরিপূর্ণ শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। খুব শীঘ্রই সব প্রস্তুতি শেষ করে তিনি দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিথী রানী মণ্ডল/










