তাইওয়ান প্রশ্নে উত্তাপ: শি বনাম তাইপে

তাইওয়ান পুনঃএকত্রীকরণ ‘অপ্রতিরোধ্য’, সামরিক মহড়ার পর শি; সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার তাইপের

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, চীন ও তাইওয়ানের “পুনঃএকত্রীকরণ” একটি “অপ্রতিরোধ্য” প্রক্রিয়া। তাইওয়ানের চারপাশে চীনা সেনাবাহিনীর ইতিহাসের বৃহত্তম লাইভ-ফায়ার মহড়া শেষ হওয়ার একদিন পর নতুন বছরের ভাষণে তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

বুধবার দেওয়া ভাষণে শি তাইওয়ান প্রণালীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে “রক্ত ও আত্মীয়তার বন্ধন”-এর কথা তুলে ধরে বলেন, পুনঃএকত্রীকরণ “সময়ের দাবি”। এর আগে দুই দিন ধরে চীনের সেনাবাহিনী তাইওয়ান ঘিরে অবরোধ অনুশীলনসহ ব্যাপক সামরিক মহড়া চালায়, যা বেইজিং “বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বহিরাগত হস্তক্ষেপের” বিরুদ্ধে “কঠোর সতর্কবার্তা” হিসেবে বর্ণনা করে। ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামের এই মহড়া ভৌগোলিক পরিসরের দিক থেকে ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়।

শি ২০২৫ সালে চালু হওয়া বার্ষিক ‘তাইওয়ান পুনরুদ্ধার দিবস’-এর কথাও উল্লেখ করেন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে দ্বীপটি থেকে জাপানের শাসনের অবসানকে স্মরণ করে।

এই সামরিক তৎপরতা এমন সময়ে হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রতিরক্ষা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার নতুন বছরের ভাষণে তিনি বলেন, চীনের “ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা”-র মুখে তাইওয়ানের জনগণ নিজেদের রক্ষায় কতটা দৃঢ়—তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দ্বীপটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি দ্বীপটিকে কার্যত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেনি।

তাইওয়ানের নিজস্ব নির্বাচিত সরকার, সেনাবাহিনী, পাসপোর্ট ও মুদ্রা থাকলেও মাত্র ১১টি দেশ ও ভ্যাটিকান সিটির স্বীকৃতি রয়েছে। বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে দেশগুলোকে তাইপেকে স্বীকৃতি না দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেয় চীন।

যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্টের আওতায় দ্বীপটির আত্মরক্ষায় সহায়তার অঙ্গীকার করেছে। তবে এই আইন চীনা অবরোধ বা আক্রমণের ক্ষেত্রে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে না।

জনমত জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ তাইওয়ানবাসী বর্তমান অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে, তাৎক্ষণিক স্বাধীনতা বা একত্রীকরণের পক্ষে সমর্থন তুলনামূলকভাবে কম।

ভাষণে শি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ ও দেশীয় চিপ উন্নয়নে চীনের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উদ্ভাবনের মাধ্যমে উচ্চমানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে এবং দ্রুত বর্ধনশীল উদ্ভাবনী সক্ষমতার দেশগুলোর মধ্যে চীন এখন শীর্ষে।

এম এম সি/