রোনালদোকে একবার কাঁদিয়েছিলেন মরিনহো, ফাঁস করলেন লুকা মদরিচ

ক্রোয়েশিয়া এবং এসি মিলানের মিডফিল্ডার লুকা মদরিচ বুধবার জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালীন হোসে মরিনহো এতটাই কঠোর কোচ ছিলেন যে, তিনি একবার তারকা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে কাঁদিয়ে ছেড়েছিলেন।

ইতালীয় সংবাদপত্র ‘করিয়েরে দেল্লা সেরা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মদরিচ বলেন, “আমি লকার রুমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে কাঁদতে দেখেছি। একজন মানুষ যিনি মাঠে নিজের সবটুকু উজাড় করে দেন, তাকেই একবার প্রতিপক্ষের ফুল-ব্যাককে তাড়া (chase) না করার কারণে বকাঝকা শুনতে হয়েছিল।”

আল নাসরে খেলা ৪০ বছর বয়সী রোনালদো ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে তিন বছর মাদ্রিদে মরিনহোর অধীনে খেলেছেন। মদরিচের এই স্মৃতিচারণ রোনালদো এবং মরিনহোর সেই বিখ্যাত উত্তাল সম্পর্কের কথাই মনে করিয়ে দেয়, যা ২০১৫ সালে স্প্যানিশ সাংবাদিক গুইলেম বালাগের লেখা রোনালদোর জীবনীতে বিস্তারিত উঠে এসেছিল।

রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর সঙ্গে ছয় মৌসুম খেলেছেন মদরিচ। এই সময়ে তিনি মরিনহো, কার্লো আনচেলত্তি, জিনেদিন জিদান এবং রাফা বেনিতেজের অধীনে খেলেছেন।

লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে নয় মৌসুম খেলা রোনালদো পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, তিনটি করে ক্লাব বিশ্বকাপ ও উয়েফা সুপার কাপ, দুটি লা লিগা, দুটি কোপা দেল রে এবং দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছেন।

টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে মদরিচকে দলে ভিড়িয়ে ছিলেন মরিনহোই এবং এই মিডফিল্ডারের ওপর তার বিশ্বাস বৃথা যায়নি। তারা একসঙ্গে স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতেন এবং মাদ্রিদের ভবিষ্যৎ হিসেবে মদরিচ নিজের অবস্থান শক্ত করেন। মাঝে মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেও মদরিচ মরিনহোকে “স্পেশাল” বা বিশেষ হিসেবেই বর্ণনা করেছেন।

মদরিচ বলেন, “কোচ এবং ব্যক্তি হিসেবে তিনি বিশেষ। তিনিই আমাকে রিয়াল মাদ্রিদে চেয়েছিলেন। মরিনহো না থাকলে আমি হয়তো কখনোই এখানে আসতাম না। আমার আফসোস যে আমি তাকে মাত্র এক মৌসুমের জন্য পেয়েছিলাম।”

২০০৪ সালে চেলসিতে নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে “ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন” উল্লেখ করে “স্পেশাল ওয়ান” দাবি করেছিলেন মরিনহো, যা পরবর্তীতে তার বিখ্যাত উপাধিতে পরিণত হয়।

২০১৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী মদরিচ মাদ্রিদের হয়ে ১৩টি অত্যন্ত সফল মৌসুম পার করেছেন। তিনি স্প্যানিশ এই শক্তিশালী ক্লাবটিকে ২৮টি শিরোপা জেোতে সহায়তা করেছেন: ৬টি ইউরোপিয়ান কাপ, ৬টি ক্লাব বিশ্বকাপ, ৫টি ইউরোপিয়ান সুপার কাপ, ৬টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা, ৪টি লা লিগা, ২টি কোপা দেল রে এবং ৫টি স্প্যানিশ সুপার কাপ। ২০১৮ সালে তিনি ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপ ফাইনালে এবং রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতাতে নেতৃত্ব দেন।

রিয়াল মাদ্রিদে ১২ মৌসুম কাটানোর পর ৪০ বছর বয়সী মদরিচ গত মে মাসে এসি মিলানের সাথে এক বছরের চুক্তিতে সই করেন। তিনি জানান, মিলান কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির কোচিং শৈলীর সাথে মরিনহোর মিল রয়েছে।

মদরিচ বলেন, “মরিনহো খেলোয়াড়দের সাথে খুব সরাসরি কথা বলেন, কিন্তু তিনি সৎ। তিনি সার্জিও রামোস এবং নতুন আসা খেলোয়াড়—সবাইকে একইভাবে দেখতেন। কিছু বলার থাকলে তিনি সরাসরি বলতেন। ম্যাক্সও (আলেগ্রি) তেমনই: কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল, তিনি মুখের ওপর বলে দেন। সততাই মূল বিষয়।”

সিরি আ’র ক্লাবটি এই বছরের শুরুতে আলেগ্রিকে পুনরায় কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এর আগে তিনি ২০১১ সালে মিলানকে লিগ শিরোপা জিতিয়েছিলেন এবং ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত জুভেন্টাসকে টানা পাঁচটি শিরোপা এনে দেন।

অন্যদিকে, ফেনারবাচে থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে ৬২ বছর বয়সী মরিনহো পর্তুগিজ জায়ান্ট বেনফিকার দায়িত্ব নিয়েছেন। নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি পোর্তো, চেলসি, ইন্টার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং এএস রোমার হয়ে ২৬টি বড় শিরোপা জিতেছেন। ২০০৪ সালে পোর্তো এবং ২০১০ সালে ইন্টার মিলানের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেন তিনি।

মদরিচ রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৬০০ ম্যাচের মাইলফলক থেকে মাত্র তিন ম্যাচ দূরে থাকতেই বিদায় নেন, যা ক্লাবের ইতিহাসে অষ্টম সর্বোচ্চ।

পর্তুগাল অধিনায়ক রোনালদোর আল নাসেরের সাথে চুক্তির আর দুই বছর বাকি। সম্প্রতি তিনি ক্যারিয়ার শেষ করার আগে ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত সপ্তাহে আল ওখদুদ-এর বিপক্ষে দলের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে তিনি ক্যারিয়ারের ৯৫৬তম গোলটি করেন। এছাড়া ২২৩ ম্যাচে ১৪১ গোল নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও তার দখলে।