দীঘিনালায় দেশমাতার বিদায়ে তৃণমূল বিএনপির সম্মিলিত দোয়া

একজন রাজনৈতিক নেত্রীর বিদায় কখনো কেবল দলের ক্ষতি হয়ে থাকে না, তা ছুঁয়ে যায় অনুসারী মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের গভীর স্তর। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া ও মোনাজাত মাহফিল সেই অনুভূতিরই প্রতিচ্ছবি, যেখানে রাজনীতি মিলিয়ে গেছে ধর্মীয় বিনয়ের ভাষায়।

দীঘিনালা উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই মাহফিলটি ছিল আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে শোকের এক শান্ত ও সংযত প্রকাশ। এখানে বক্তব্যের চেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে প্রার্থনা, স্লোগানের বদলে শোনা গেছে নীরবতা।

অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম, সহ-সভাপতি আব্দুল আলী, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শামসু রানা, সহ-দপ্তর সম্পাদক মোবারক হোসেন মহিনসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণে মাহফিলটি দলীয় ঐক্য ও শোকের সম্মিলিত প্রতিফলনে রূপ নেয়।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন দীঘিনালা উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম। মোনাজাতে তিনি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি তাঁর পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী ও সমগ্র দেশবাসীর জন্য দোয়া করেন। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়।

এর আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার হাফেজ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পবিত্র কোরআন খতম সম্পন্ন করা হয়। ধর্মীয় এই পর্বটি শোকের আবহকে আরও গভীর করে তোলে এবং অনুষ্ঠানে এক আত্মিক মাত্রা যোগ করে।

মাহফিল শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন গণতন্ত্র, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতীক। তাঁর স্মরণে এই দোয়া মাহফিল তৃণমূল পর্যায়ে সেই ইতিহাসকে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করার প্রয়াস।

দীঘিনালার এই আয়োজন তাই শুধুই একটি দোয়া মাহফিল নয়—এটি রাজনীতি ও বিশ্বাসের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের নীরব শ্রদ্ধা, যেখানে শোক কথা বলে প্রার্থনার ভাষায়।

মোঃ লোকমান হোসেন,দীঘিনালা উপজেলা প্রতিনিধি/