গাজা উপত্যকায় কাজ করা তিন ডজনেরও বেশি মানবিক সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। এই সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যেই ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও তীব্র আকার নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো।
স্থগিত হওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়েরস—এমএসএফ), যা গাজায় সক্রিয় সবচেয়ে বড় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর একটি। এমএসএফ জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত গাজার স্বাস্থ্যখাতে “বিপর্যয়কর” প্রভাব ফেলবে। সংস্থাটির দাবি, তারা বর্তমানে গাজার প্রায় ২০ শতাংশ হাসপাতাল শয্যা এবং মোট প্রসবের এক-তৃতীয়াংশে সহায়তা দিচ্ছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এমএসএফের কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও সংস্থাটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইসরায়েল বলছে, নতুন নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব সংস্থার কার্যক্রম স্থগিত করা হচ্ছে। তবে এমএসএফসহ অন্যান্য সহায়তা সংস্থার দাবি, তারা নিরপেক্ষতা ও মানবিক নীতিমালা মেনেই কাজ করে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ চিকিৎসক ড. জেমস স্মিথ, যিনি আগে গাজায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনরায় প্রবেশে বাধা পান, আল জাজিরাকে বলেন—সহায়তা সংস্থার ওপর আরোপিত এই “নির্মম” বিধিনিষেধ ইতোমধ্যেই “ভয়াবহ” মানবিক সংকটকে আরও “ভয়াবহ করে তুলবে”। তার মতে, অভিজ্ঞ সহায়তা সংস্থাগুলোর কাজ সীমিত করা হলে নারী, শিশু ও আহত বেসামরিক মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংস ডেকে এনেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৭১,২৬৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলে ১,১৩৯ জন নিহত হয় এবং প্রায় ২০০ জনকে জিম্মি করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, গাজায় সহায়তা কার্যক্রমে আরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে দুর্ভিক্ষ, রোগব্যাধি ও মানবিক দুর্ভোগ আরও গভীর হবে, যেখানে লাখো মানুষ এখনও বেঁচে থাকার জন্য সম্পূর্ণভাবে বাহ্যিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।










