বিয়ে আমার ভাল্লাগেনা !

মালাইকা অরোরা এবং আরবাজ খানের বিচ্ছেদ বলিউডের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। দীর্ঘ ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর যখন ২০১৬ সালে তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন অনুরাগী থেকে শুরু করে খোদ তাঁদের পরিবারও অবাক হয়েছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মলাইকা তাঁর এই কঠিন সিদ্ধান্ত এবং তার পরবর্তী সামাজিক চাপ নিয়ে মুখ খুলেছেন, যা থেকে স্পষ্ট যে একজন নারীর জন্য নিজের খুশিকে প্রাধান্য দেওয়া আজও কতটা চ্যালেঞ্জিং।

১৯৯৮ সালে মালাইকা ও আরবাজের বিয়ে হয়েছিল। দীর্ঘ পথচলায় তাঁদের একটি পুত্রসন্তান, আরহানও রয়েছে। মালাইকা জানান, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তটি হুট করে নেওয়া হয়নি। তাঁরা দুজনেই সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একটা সময় পর তাঁরা বুঝতে পারেন যে, কেবল অভ্যাসের বশে বা অন্যের কথায় এক ছাদের নিচে থাকা সম্ভব হলেও, সেখানে মানসিক প্রশান্তি নেই। মলাইকার কথায়, “অন্যকে খুশি করার আগে নিজেকে তো খুশি রাখতে হবে! আমি নিজেই তো সেই বিয়েতে সুখী ছিলাম না।

আমাদের সমাজে দীর্ঘদিনের বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে আজও নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। মালাইকাও তার ব্যতিক্রম হতে হয়নি। বিচ্ছেদের সময় তাঁর পরিবার প্রশ্ন তুলেছিল— এত বছর পর কেন এই সিদ্ধান্ত? এমনকি সমাজের অনেকেই তাঁকে ‘স্বার্থপর’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল, তিনি কেবল নিজের সুখের কথা ভেবেছেন। কিন্তু মলাইকা এই সমালোচনায় কান দেননি। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজের মানসিক স্বাস্থ্য এবং ভালো থাকা সবার আগে জরুরি।

মালাইকা ও আরবাজের আইনি বিচ্ছেদ ঘটলেও তাঁদের মধ্যে তিক্ততা নেই। পুত্র আরহানের দায়িত্ব পালনে তাঁরা দুজনেই বদ্ধপরিকর। আরহানের মা-বাবা হিসেবে তাঁরা আজও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে হাজির হন। মলাইকা মনে করেন, একটি বিষাক্ত বা অসুখী পরিবেশে সন্তান বড় হওয়ার চেয়ে, বাবা-মায়ের আলাদা থেকে সুখী থাকা সন্তানের জন্য বেশি ইতিবাচক।

বিচ্ছেদ নিয়ে তাঁর মনে কোনো আফসোস নেই। তবে এই অভিজ্ঞতার পর বিয়ে নিয়ে তাঁর ধারণা বদলেছে। তিনি মনে করেন, বিয়ে কোনো খারাপ বিষয় নয়, তবে হয়তো “বিয়েটা তাঁর জন্য নয়।” বর্তমানে তিনি নিজের জীবন নিয়ে খুশি এবং স্বাধীনভাবে বাঁচতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। ভবিষ্যতে আবার বিয়ে করবেন কি না, তা তিনি সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

বিথী রানী মণ্ডল/