সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আজ বুধবার বাদ জোহর দুপুর ২টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শেষ বিদায়ে অংশ নিতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার ও বিএনপি। জানাজা উপলক্ষ্যে আজ সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ও বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জানাজার সময় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার বদলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন রাখা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জুড়ে বিশাল এই জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা পড়াবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশেই বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। এ সময় পরিবারের সদস্য, সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, বিদেশি কূটনীতিক ও দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দাফন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে জিয়া উদ্যানে জনসাধারণের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে।
জানাজা ও দাফন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এভারকেয়ার হাসপাতাল, সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিএমপির পক্ষ থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালীন আতশবাজি, পটকা ফোটানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উচ্চশব্দে হর্ন বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
জানাজায় মানুষের যাতায়াত সহজ করতে আজ নিয়মিত সূচির অতিরিক্ত বিশেষ মেট্রোরেল সার্ভিস পরিচালনা করবে ডিএমটিসিএল। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চযোগে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। গত রাত থেকেই সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নেওয়া হবে। সেখান থেকে মহাখালী ফ্লাইওভার ও বিজয় সরণি হয়ে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছাবে মরদেহবাহী কফিন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোকাতুর পরিবেশে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে আজ থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শুরু হয়েছে।
-এম. এইচ. মামুন










