দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল (এম আর) হাসানকে বিচারিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর হাইকোর্ট বিভাগের ৬৬টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করলেও, সেই তালিকায় বিচারপতি এম আর হাসানের নাম রাখা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের উচ্চপদস্থ সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অভিযোগের পটভূমি: গত নভেম্বরে শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক বিচারপতি এম আর হাসানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলায় এই বিচারপতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। এছাড়া তার ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের পরিমাণ ঘোষিত আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এমনকি বিচারপতির ছেলের গাড়ি দুর্ঘটনার বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও আনা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, অভিযোগটি বর্তমানে জুডিসিয়াল কাউন্সিলে প্রক্রিয়াধীন।
পুরানো ও বর্তমান চিত্র: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবর মাসে ‘দলবাজ ও দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে অভিযুক্ত ১২ জন বিচারপতিকে প্রাথমিকভাবে কোনো বেঞ্চ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি। সেই তালিকায় এখন নতুন করে যুক্ত হলেন বিচারপতি এম আর হাসান। বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের অবস্থা নিম্নরূপ:
আগে ছুটিতে পাঠানো ১২ জনের মধ্যে ৯ জনই এখন আর দায়িত্বে নেই। কেউ পদত্যাগ করেছেন, কাউকে তদন্তের পর অপসারণ করা হয়েছে এবং কেউ কেউ নিয়মিত অবসরে গেছেন। বিচারপতি নাঈমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলে তদন্ত চলমান থাকায় তারা বর্তমানে বেঞ্চের দায়িত্বে নেই। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি আশরাফুল কামাল বর্তমানে স্বেচ্ছায় ছুটিতে রয়েছেন।
গত বছরের ১০ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভের মুখে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ আপিল বিভাগের ছয়জন বিচারপতি পদত্যাগ করেন। এরপর ১৫ অক্টোবর আবারও আন্দোলনের মুখে ১২ জন বিচারপতিকে বিচারিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে রাখা হয়। সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের তদন্তের ভিত্তিতে সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারকে অপসারণ করেন রাষ্ট্রপতি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং ফ্যাসিবাদী দোসরদের অপসারিত করতে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের এই সক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিচারপতি এম আর হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো বিচারিক বেঞ্চ দেওয়া হবে না বলে জানা গেছে।
-এম. এইচ. মামুন










