বাবার রাজনৈতিক আদর্শ ও স্মৃতি ধরে রাখতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি নির্বাচন করতে চান ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসন থেকে।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব, ভাষা সৈনিক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ অলি আহাদের একমাত্র সন্তান। ভাষা আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাবাহিকতায় বাবার আদর্শকে সামনে রেখে তিনি জনগণের সুখ–দুঃখ, আশা–আকাঙ্ক্ষার সঙ্গী হয়ে কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন।
ভাষাসৈনিক অলি আহাদ ছিলেন ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা। ১৯৪৮ সাল থেকেই তিনি বাংলা ভাষার দাবিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তিনি ‘পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অলি আহাদ অংশ নেন। সেই নির্বাচন ছিল ভাষা আন্দোলনের চেতনার প্রতিফলন এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম গণতান্ত্রিক যাত্রা। সে সময় আওয়ামী লীগের একক আধিপত্যের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি স্বতন্ত্র বা বিরোধী অবস্থান থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, যা তার আপসহীন রাজনৈতিক নীতিরই বহিঃপ্রকাশ ছিল।
যদিও ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে তার দল বা জোট উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি, তবে ভাষা আন্দোলনের আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখাই ছিল অলি আহাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ (মোজাফফর), ন্যাপ (ভাসানী), সিপিবি, জাসদসহ মোট ১৪টি দল অংশ নেয়।
উল্লেখ্য, সে সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বর্তমান কুমিল্লা মহকুমার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসন থেকেই ১৯৭৩ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন অলি আহাদ। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ধারাবাহিকতায় এবার তার কন্যা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একই আসন থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাবার আদর্শিক উত্তরাধিকার, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা—সব মিলিয়ে রুমিন ফারহানার এই উদ্যোগ আসন্ন নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
– জায়েদ হোসেন,ব্রাহ্মণবাড়ীয়া/










