একসময় কর্মচাঞ্চল্যে উৎসবমুখর থাকত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। সেসব দিন এখন অতীত। এ বিষয়ে আক্ষেপ ঝরল বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ডলি জহুরের কণ্ঠে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের অশেষ ভালোবাসা কুড়িয়েছেন এই গুণী অভিনেত্রী, কিন্তু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি তাঁর মনেও ব্যথা দিয়েছে।
নতুন বছর শুরুতেই তিনি হাজির হচ্ছেন নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘পরম্পরা’ নিয়ে। সোমবার দুপুরে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে এই নতুন কাজের বিষয়টি প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও তার বক্তব্য ছিল স্পষ্ট ও সরল।
এক প্রশ্নের জবাবে ডলি জহুর বলেন, “একসময় মনে হতো, এফডিসিই আমার প্রাণকেন্দ্র। এখানে আমি বহু কাজ করেছি। কিন্তু এখন সেখানে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। জায়গাটিকে নিস্তেজ মনে হয়, দেখতে ভালো লাগে না। সেজন্যই আর এফডিসির দিকে তাকাই না।” তিনি আরও যোগ করেন, “যেদিন এফডিসি আবার সুন্দর হবে, গোছানো হবে, সেদিন সেখানে যাব। হয়তো তখন কাজ করব না, কিন্তু দেখার জন্য হলেও সেখানে যাব।”
অভিনয়ের প্রতি তাঁর এই নিষ্ঠা ও প্রীতি এখনও অটুট। নতুন নাটক ‘পরম্পরা’ প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদী। তাঁর কথায়, “আমার বিশ্বাস দর্শক ‘পরম্পরা’ ভালোভাবে গ্রহণ করবে। টেলিভিশন নাটক থেকে কখনো দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। তাই নতুন কাজ নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।”
ডলি জহুর শুধু পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীই নন, তিনি বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের এক স্বীকৃত ও প্রভাবশালী কণ্ঠ। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও নিষ্ঠা দিয়ে এই শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছেন। তবে বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিস্থিতি তাঁর আশা ও ব্যথার মিলনস্থল। তিনি মনে করেন, শিল্পের জন্য প্রয়োজন সৃজনশীল পরিবেশ, যাতে তরুণ প্রজন্মও অনুপ্রাণিত হতে পারে।
ডলি জহুরের অভিনয়জীবন সত্যিই প্রশংসনীয়। পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে তিনি দেড়শর বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। ২০২১ সালে চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘আজীবন সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। এরপরও তিনি কখনও থেমে থাকেননি। গত বছর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা— একুশে পদক— প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়।
নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘পরম্পরা’তে ডলি জহুরের উপস্থিতি দর্শকদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ হয়ে থাকবে। যদিও তিনি নিজে মন্তব্য করেছেন যে, এফডিসির বর্তমান অবস্থায় তিনি আর আগের মতো সেখানে কাজ করতে আগ্রহী নন, তবু নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল পরিবেশে কাজ করতে উৎসাহিত করতে তিনি সব সময় এগিয়ে থাকেন।
অতীতের সফলতা ও বর্তমানের আশাবাদ মিলিয়ে ডলি জহুর বাংলা বিনোদন জগতের এক অম্লান নক্ষত্র। দেশীয় চলচ্চিত্র ও নাট্য অঙ্গনে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি শুধু পুরস্কারে নয়, বরং দর্শকের অন্তরে অমর হয়ে আছে। নতুন বছর ও নতুন কাজের সঙ্গে তিনি আবারও প্রমাণ করতে চলেছেন যে, অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুনত্বের মিলনই আসল শিল্পীকে স্থায়ী করে।
বিথী রানী মণ্ডল/










