নেপালের আসন্ন ৫ মার্চের সংসদ নির্বাচনের আগে দুই জনপ্রিয় নেতার জোট গঠিত হয়েছে, যা গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসা পুরোনো দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন দলীয় কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা।
সাবেক র্যাপার ও বর্তমান কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামে পরিচিত, রোববার রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টি (আরএসপি)–তে যোগ দিয়েছেন। এই দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক থেকে রাজনীতিক হওয়া রবি লামিচানে।
দলীয় সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী আরএসপি যদি ৫ মার্চের নির্বাচনে জয়ী হয়, তবে ৩৫ বছর বয়সী বালেন হবেন দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী। অন্যদিকে, ৪৮ বছর বয়সী লামিচানে দলের প্রধান হিসেবেই থাকবেন।
এই জোট গঠনের পেছনে রয়েছে গত সেপ্টেম্বরের জেনজি বা যুব নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন, যেখানে ৭৭ জন নিহত হন এবং যার জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বালেন ও লামিচানে উভয়েই আন্দোলনে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিপিন অধিকারী বলেন, “বালেন ও তাঁর তরুণ সমর্থকদের আরএসপির আওতায় আনা দলের জন্য একটি খুবই কৌশলগত ও বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও বলেন, “তরুণ ভোটার হারানোর আশঙ্কায় ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলো চাপের মধ্যে রয়েছে।”
নেপালের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষের মধ্যে ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য। আন্দোলনের পর প্রায় ১০ লাখ নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই তরুণ।
জেনজি আন্দোলনের সময় বালেন ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এবং আন্দোলনকারীদের একপ্রকার অঘোষিত নেতা হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি–র নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে ভূমিকা রাখেন, যা নির্বাচন তদারকি করবে।
এম এম সি/










