আইনের গণ্ডি পেরিয়ে সংস্কৃতির ছোঁয়া: দীঘিনালা থানায় পিঠা উৎসব

থানা মানেই মামলা, ডিউটি আর শৃঙ্খলার কঠোর চেহারা—এই প্রচলিত ধারণাকে কিছুটা ভিন্নভাবে তুলে ধরল খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থানা। শীতের সন্ধ্যায় থানার প্রাঙ্গণে ভাপা ও পাটিসাপটার ঘ্রাণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এটি ছিল শুধু পিঠা খাওয়ার আয়োজন নয়, বরং পুলিশ সদস্যদের কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে দূরত্ব কমানোর একটি মানবিক প্রয়াস।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহারের উদ্যোগে আয়োজিত এই পিঠা উৎসবে অংশ নেন থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা এবং তাঁদের সহধর্মিণীরা। ব্যস্ত ও চাপপূর্ণ পুলিশি দায়িত্বের বাইরে এসে এক সন্ধ্যার জন্য হলেও তাঁরা মিলিত হন পারিবারিক ও আনন্দঘন পরিবেশে।

এই আয়োজনে শীতকালীন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা পিঠার সমাহার দেখা যায়। নতুন চালের গুঁড়া ও খেজুরের গুড়ে তৈরি ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, পুলি, নকশি ও আন্দশা পিঠার পাশাপাশি ছিল ঝিনুক পিঠা, পাকন পিঠা, তেল পিঠা, বাঁশে তৈরি চুঙ্গা পিঠা, ডিম সুন্দরী ও হৃদয়হরণ পিঠা। প্রতিটি পিঠাই যেন গ্রামীণ সংস্কৃতি ও শেকড়ের গল্প তুলে ধরে।

দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার বলেন, পুলিশ সদস্যদের মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এমন আয়োজন করলে কাজের পরিবেশ আরও ইতিবাচক হয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি যেন হারিয়ে না যায়, সেটিও আমাদের দায়িত্ব। পিঠা উৎসবের মাধ্যমে সেই সংস্কৃতিকে থানার ভেতরেও তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

শীতের সন্ধ্যায় থানার ভেতরে সাজানো পিঠার থালা তাই শুধু উৎসবের অনুষঙ্গ নয়—এটি ছিল দায়িত্বের কঠোরতার মাঝেও সম্পর্ক, সংস্কৃতি ও মানবিকতার জায়গা তৈরি করার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।

লোকমান হোসেন,খাগড়াছড়ি/