কঠোর শীতে গাজায় বাড়ছে মৃত্যু ও মানবিক বিপর্যয়

টানা ভারী বৃষ্টি ও তীব্র শীতের দাপটে গাজায় আরও গভীর হচ্ছে মানবিক সংকট। কঠোর শীতকালীন আবহাওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের বরাতে জানা গেছে, রোববার শীতজনিত কারণে একটি দেয়াল ধসে পড়ে অন্তত দুইজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি সাত বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। এ নিয়ে শীত শুরু হওয়ার পর থেকে ধসে পড়া ঘরবাড়ি ও ভবনের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারানোর ঘটনা বেড়েই চলেছে।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস (জিএমও) জানিয়েছে, শীতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন মানুষ ঘরবাড়ি ও ভবন ধসে পড়ে নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে জানানো হয়, এ সময়ের মধ্যে আবহাওয়ার প্রভাবে অন্তত ৪৯টি ভবন ধসে পড়েছে।

ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া থেকে বাঁচতে বহু ফিলিস্তিনি বোমায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ কিংবা অস্থায়ী, পানি জমে থাকা তাঁবুতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ও জীর্ণ ভবনগুলো শীতকালীন দুর্যোগে যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শরণার্থী শিবিরে একাধিক তাঁবুর ওপর গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া এক বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি আইয়াদ আবু জদেয়ান বলেন,
“হাওয়ার কারণে এটি দ্বিতীয়বার আমাদের ওপর গাছ পড়ল। আমাদের জন্য বিশ্ব কোথায়, মানবাধিকার কোথায়? আমরা এখানে মৃত্যুর মাঝেই বসে আছি। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন, নইলে সবাই শহীদ হয়ে যেতাম।”

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে রাতভর ভারী বৃষ্টির পর বহু মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে তাঁবুর ভেতরে জমে থাকা পানি দেখতে পান বলে জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স। রাফাহ গভর্নরেটের সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র আহমেদ রাদওয়ান বলেন,
“এমন জায়গায় পশু-পাখিও টিকে থাকতে পারে না। কিন্তু মানুষের আর কোনো উপায় নেই, ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িতেই ফিরে যেতে হচ্ছে।”

কর্তৃপক্ষ বলছে, সর্বশেষ এই বৈরী আবহাওয়া গাজায় বিদ্যমান ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ‘নতুন এক বিপর্যয়কর অবস্থায়’ ঠেলে দিয়েছে।

এদিকে, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর প্রধান বলেছেন, প্রয়োজনীয় মাত্রায় গাজায় ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি জানান, যদি পর্যাপ্ত ত্রাণ ঢুকতে দেওয়া হয়, তাহলে সংস্থাটি দ্রুত সহায়তা কার্যক্রম বহুগুণ বাড়াতে পারবে।

ইউএনআরডব্লিউএ-এর কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন,
“আরও বৃষ্টি, আরও মানবিক দুর্ভোগ, হতাশা ও মৃত্যু। কঠোর শীত দুই বছরের বেশি সময়ের ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। মানুষ পানি ভর্তি অস্থায়ী তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।”

সূত্র:সি এন এন

এম এম সি/