গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা-বরমী-গফরগঁও আঞ্চলিক মহা সড়কের বরমী বাজার এলাকায় প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৭ মিটিার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের দুই বছর পার হলেও তা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুর এক পাড়ে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি মানুষের কাজেই আসছে না।
জমি অধিগ্রহণ-জটিলতায় সেতুর এক পাড়ের পাইটালবাড়ী এলাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এই সেতুর সুফল পাচ্ছেন না পথচারী সহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বরমী ৪০০ বছরের পুরাতন একটি বাজার। এর আশপাশের চারটি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষ এ বাজারে কেনাকাটা করেন। বুধবার বরমীর সাপ্তাহিক হাটবার। এ দিন যানজটে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতু নির্মাণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ রয়েই গেছে এখনো।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সেতুটি নির্মাণ করে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়। সেতুর জন্য এক পাশে পাইটালবাড়ী এলাকায় এক একর ৩৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয় যাতে ১৬টি পরিবার বসবাস করছে।
জমি অধিগ্রহণ-জটিলতা নিরসনে বারবার উদ্যোগ নিলেও নানা কারণে জটিলতা রয়েই গেছে। জমির মালিকদের টাকা না দিয়ে সড়ক নির্মাণ করতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে অধিগ্রহণ করা জমির মালিকরা টাকার জন্য সওজ অফিসে ঘুরছেন। তারা টাকা না পেলে নিজেদের জমি ছাড়বেন না। তাদের ক্ষোভ, সেতু নির্মাণের আগেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো পরিবার অধিগ্রহণের টাকা পায়নি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ৮ টি পরিবারের ডিমারগেশন কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বাকিগুলো খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হবে।
১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ অঞ্চলের জনগুরুত্বপূর্ণ ও বহুল প্রতীক্ষিত সেতুটি জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে খুব দ্রুত তর সময়ের মধ্যেই চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মাহমুদুল হাসান,
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি৷










