জয়পুরহাটের কালাইয়ে পুকুর সংস্কারের নামে মাটি বিক্রি, নীরব প্রশাসন

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সরকারি পুকুর লিজ নিয়ে সংস্কারের নামে প্রকাশ্যে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। যদিও মাটি বিক্রির কোনো অনুমোদন নেই। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মাটি বিক্রি বাড়ছেই।

জানা যায়, কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের বামনগাঁও মৌজার ১ একর ৪০ শতক সরকারি পুকুর লিজ নিয়ে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করছেন লিজ গ্রহীতা বামনগ্রামের মনোয়ার হোসেন। পুকুরের লিজ গ্রহীতা মনোয়ার হোসেন বলেন, পুকুর পাড় সংস্কারের অনুমোদন থাকলেও মাটি বিক্রির কোনো অনুমতি নেই। জিন্দারপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম মাটি বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন। ভূমি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, মাটি বিক্রির অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ।

উপজেলার মাদারপুর গ্রামের সুইট হোসেন সরকারি পুকুর সংস্কারের অনুমোদন নিয়ে দেরারছে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। তার পুকুর সংস্কারের অনুমতি থাকলেও মাটি বিক্রির কোনো অনুমতি নেই। সুইট বিএনপির কতিপয় নেতার নাম ভাঙিয়ে লোকজনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে সরকারি পুকুর কেটে মাটি বিক্রি করছেন।

এলাকাবাসী জানান, পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় মাটি কাটছেন তারা। ট্রাক্টর ও ভেকুর শব্দে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তা দিয়ে মাটি পরিবহনের কারণে রাস্তাগুলো নষ্ট হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাটি ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় নেতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, সরকারি পুকুর সংস্কারের অনুমতি নিয়ে মাটি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খুব দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

-জয়নাল আবেদীন জয়

জয়পুরহাট