ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দেড় মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও বডি ক্যামেরা এখনও কেনা হয়নি, যা ভোটকে স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য সরবরাহ করা প্রয়োজন ছিল। গত কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল, বিভিন্ন মঞ্চে ব্যাপক মতামত উঠে এসেছে। শেষ পর্যন্ত প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারকে নিজ নিজ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নির্ধারণ করে দরপত্র আহ্বান করার মাধ্যমে বডি ক্যামেরা ক্রয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ঘুরে দাঁড়ানো মামলায় বডি ক্যামেরা এখনও কেনা সম্ভব হয়নি, যদিও আগে এই নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পর্যাপ্তসংখ্যক ক্যামেরা সরবরাহ করার পরিকল্পনা বক্তব্য হয়েছিল। নির্বাচনকে নিরাপদ, শান্ত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন স্তরে বডি ক্যামেরা সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখন সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নিজ জেলার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রসমূহের দরকার অনুযায়ী বডি ক্যামেরা কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করতে। ইতোমধ্যে পুলিশ সদরদপ্তর এসব নির্দেশনা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেছিলেন যে এবার বডি ক্যামেরা কেন্দ্রীয়ভাবে কেনা হবে না; বরং কোথায় কত প্রয়োজন হবে তা এসপিরা নির্ধারণ করবেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে তারা সময়মতো ক্যামেরা সংগ্রহে সক্ষম হবেন। গত আগস্টে সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে ৪০,০০০ বডি-ওয়্যার ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা বেড়ে তুলবে বলে জানানো হয়েছিল।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে একটি টিম বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্যামেরা লাগানোর পরিকল্পনা করছে এবং সে অনুযায়ী তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে, পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে যাতে ক্যামেরা ব্যবহারে পারদর্শী হতে তারা সক্ষম হয়। ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত ভিডিও ও অডিও তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত কন্ট্রোল সেন্টারে পাঠানো হবে, যা পরিদর্শন ও নজরদারি কার্যক্রমে সহায়তা করবে।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তাদের এলাকার জন্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্যামেরার দরকার রয়েছে এবং শীঘ্রই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন ক্যামেরা হাতে পাওয়ার পর সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে, আর ব্যবহারকারী কর্মকর্তাদের জন্য প্রযুক্তিগত দিকগুলো নির্ধারণের জন্য একটি কমিটিও গঠিত আছে।
এসময় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুলিশ দায়িত্ব পালনের সময় বডি ক্যামেরা ব্যবহার করে থাকে, যাতে কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করা যায়, এবং এই পদ্ধতির মাধ্যমেই নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আফরিনা সুলতানা/










