ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় বিভিন্ন হাট–বাজারের ফুটপাতে জমে উঠেছে বাহারি রঙের ফুল ও ফলের গাছের চারা। উপজেলার মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে রঙিন ফুলের সারি। পথের ধারে ফুটপাতে ও ভ্যানে করে বিক্রি হচ্ছে ফুল, ফল ও শীতকালীন সবজির চারা।
শীত মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে গাঁদা, ডালিয়া, কসমস, ডায়ানথাস, জিনিয়া, সিলভিয়া, পিটুনিয়া, সেলোসিয়া, গোলাপ ও চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা ধরনের ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। লাল, হলুদ, সাদা, বেগুনি ও গোলাপি রঙের ফুলে যেন বসেছে এক রঙিন মেলা। চলতি পথে এসব ফুলের দিকে তাকালেই মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) উপজেলার বিভিন্ন হাট–বাজার ঘুরে দেখা যায়, পলিব্যাগ ও টবে সাজিয়ে রাখা ফুল, ফল ও সবজির চারায় নিয়মিত পানি ছিটাচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারা এলেই তাদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে নানা জাতের গাছের চারা। বাড়ির বারান্দা ও ছাদ সাজাতে ফুটপাত থেকেই ফুল ও ফলের চারা কিনছেন শৌখিন বৃক্ষপ্রেমীরা।
নাসিরনগরের বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, ফুটপাতে ফুলের চারা কিনতে ভিড় থাকলেও বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম। ফুলের সৌন্দর্যে ক্রেতারা খুশি হলেও ব্যবসায়ীদের মুখে তেমন হাসি ফুটছে না।
উপজেলা সদরের কলেজ মোড় এলাকায় ফুলের চারা কিনতে আসা গৃহিণী শিউলি আক্তার বলেন, “আমি ডালিয়া, জিনিয়া, গোলাপ আর গাঁদা ফুলের চারা কিনেছি। সঙ্গে একটি সুরমা মরিচের চারাও নিয়েছি। এগুলো টবে করে বাসার বারান্দায় রাখব। শীত এলেই ফুলের গাছ কিনি, বাসার ভেতর রঙিন ফুল দেখতে খুব ভালো লাগে।”
বিক্রেতারা জানান, ফুলের মধ্যে গোলাপ, গাঁদা, ডায়ানথাস, পিটুনিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ও সিলভিয়ার চাহিদা বেশি। ফল ও সবজির চারার মধ্যে লেবু, মরিচ, টমেটো, পেঁপে ও বেগুন বেশি বিক্রি হচ্ছে। ছোট ফুলের চারা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় এবং বড় চারা ১০০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজি চারা ১৫ থেকে ২৫ টাকা এবং ফলের চারা ১০০ টাকা থেকে শুরু। এসব চারা মূলত নার্সারিতেই তৈরি করা হয়, চাহিদা বেশি হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থেকেও আনা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের মোড়ে ফুল ও ফলের চারা নিয়ে বসা বিক্রেতা মো. সবুজ মিয়া বলেন, “জেলা সদর থেকে বিভিন্ন নার্সারি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার দুইশ’ টাকার চারা কিনেছি। কেনার সময় চারার বয়স আর গোড়ার মাটি শক্ত কি না তা দেখে নিই। এতে চারা মজবুত হয় এবং বহনের সময় নষ্ট হয় না।”
তিনি আরও বলেন, “চারা বিক্রির সময় ক্রেতাদের পরিচর্যার বিষয়গুলোও বুঝিয়ে দিই। শীতের ফুলগুলো নিয়মিত পানি ও যত্ন না পেলে ভালো থাকে না। ফুল ঝরে গেলে সেই চারা আর বিক্রি করা যায় না, কারণ ফুল দেখেই মূলত ক্রেতারা কিনতে চান।”
উপজেলার কলেজ মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতে গড়ে উঠেছে এমন আরও অনেক অস্থায়ী ফুলের দোকান। শীতের মৌসুমি ফুলের সন্ধানে এসব দোকানে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও শৌখিন ক্রেতারা।
জায়েদ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া/










