মোশাররফ করিমের অজানা কথা

মোশাররফ করিমের সাফল্যের গল্পটি কেবল একজন অভিনেতার নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম আর সততার এক অনুপ্রেরণাদায়ক উপাখ্যান। গ্রাম থেকে উঠে এসে দেশের শীর্ষস্থানীয় অভিনেতায় পরিণত হওয়ার এই যাত্রাটি মোটেই সহজ ছিল না। 

মোশাররফ করিমের অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা শুরু হয় স্কুলজীবন থেকেই। বছরের শুরুর মাসগুলোতে স্কুলের নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন অপরিহার্য। এমনকি শিশুশিল্পী হিসেবে যাত্রাপালায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও তাঁর ঝুলিতে আছে। পরবর্তী সময়ে ঢাকায় এসে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। থিয়েটার থেকেই তিনি শেখেন যে, একজন বড় শিল্পী হওয়ার আগে একজন ভালো মানুষ হওয়া জরুরি।

সম্প্রতি রুম্মান রশীদ খানের সঞ্চালনায় ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ পডকাস্টের একটি বিশেষ পর্বে নিজের জীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। ২৭ ডিসেম্বর মাছরাঙা টেলিভিশন ও রেডিও দিনরাত-এ প্রচারিত এই পর্বে উঠে এসেছে তাঁর সংগ্রাম ও ব্যক্তিগত দর্শনের কথা।

২০১৮ সালে ‘কমলা রকেট’ ছবির জন্য তাঁকে ‘শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা’ হিসেবে জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। পডকাস্টে তিনি পুনরায় ব্যাখ্যা করেন যে, তাঁর চরিত্রটি ছিল ছবির অন্যতম প্রধান এবং সিরিয়াস একটি চরিত্র। সেটিকে ‘কৌতুক’ বিভাগে ফেলায় তিনি নিজের আপত্তির জায়গা থেকে পুরস্কারটি বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

পডকাস্টে মজার ছলে তিনি নিজের রান্নার সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, ডিমের কয়েকটি আইটেম ছাড়া তিনি তেমন কিছু রাঁধতে পারেন না। ইউটিউব দেখে শেখার চেষ্টা করলেও তা মনে রাখতে পারেননি—তাঁর এই সহজ স্বীকারোক্তি ভক্তদের কাছে তাঁকে আরও আপন করে তুলেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আজকাল না বুঝে তথ্য শেয়ার করার যে প্রবণতা, তা নিয়ে মোশাররফ করিম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, কোনো কিছু যাচাই না করে মন্তব্য করা বা শেয়ার করা নিজের ব্যক্তিত্বকেই ছোট করে।

মোশাররফ করিমের এই সাক্ষাৎকারটি কেবল একজন তারকার গল্প নয়, বরং জীবনকে দেখার এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।

 

বিথী রানী মণ্ডল/