দিনাজপুরে SAY SRHR প্রকল্পের যাত্রা শুরু

দিনাজপুরের পর্যটন মোটেলে ‘সাপোর্টিভ এ্যাডোলেসেন্টস অ্যান্ড ইউথ সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ অ্যান্ড রাইটস’ (SAY SRHR) প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা অর্থায়নে এবং ওয়ার্ল্ড রেনিউ বাংলাদেশ- এর কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত এই পাঁচ বছর মেয়াদী প্রকল্পটি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর এবং ঘোড়াঘাট উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত কিশোর-কিশোরী (বয়স ১০-২৪) যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার (SRHR) উন্নয়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ল্যাম্ব কতৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এই সভায় গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের নতুন পথনকশা তৈরির লক্ষ্যে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারা তুলে ধরেন।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর স্বাগত বক্তব্যে ল্যাম্বের পরিচালক-সিএইচডিপি
উৎপল মিন্ জ, প্রকল্পের ‘জেন্ডার ট্রান্সফরমেটিভ’ বা লিঙ্গ-রূপান্তরকারী পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কীভাবে এই প্রকল্পটি সুবিধাবঞ্চিত কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের অবনতির মূলে থাকা লিঙ্গ-বৈষম্যমূলক কারণগুলো নিয়ে কাজ করবে।
স্বাগত বক্তব্যের পর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. লুৎফুল বিন ফারুক প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিতভাবে আগত অতিথিদের কাছে তুলে ধরেন এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন প্রকল্পটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ছয়টি স্তম্ভের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হবে। ২,১০৪ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ মোট ১,৯২,৪৭৮ জন প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীকে নিয়ে এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো—ইউনিয়ন ও কমিউনিটি পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়ন করা, যাতে সেখানে জেন্ডার-সংবেদনশীল এবং কিশোর-বান্ধব সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়।

প্রকল্পের প্রধান ফ্রান্সিস মন্ডল প্রকল্পের রুপরেখা আলোচনা করেন। ল্যাম্বের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ল্যাম্ব অংশিদারিত্বে বিশ্বাস করে তাই সরকরের সাথে সমন্বয় করে এই প্রকল্প সকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আসিফ ফেরদৌস বলেন, কিশোর-কিশোরীদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য সরকারি এবং বেসরাকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সমন্বয় করে কাজের উপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য শিক্ষা নিশ্চিতের উপর জোর দেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় মানসিক স্বাস্থ্য, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাভাবিক প্রসব সেবা, কিশোর-কিশোরীদের পুষ্টি নিশ্চিতে প্রকল্পের কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানানো হয়।
মো. মোজাম্মেল হক, বিভাগীয় পরিচালক- পরিবার পরিকল্পনা এই প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সাপ্লাই চেইন ব্যস্থাপনায় প্রকল্পকে কাজ করার জন্য দিক নির্দেশনা দেন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক)ও দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন।

দিনাজপুর জেলার জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাপনী বক্তব্যে তিনি সরকারের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনে এই প্রকল্পের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।
অবহিতকরণ সভাটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; এটি ছিল দিনাজপুর জেলার কিশোর-কিশোরীদের যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার এবং লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী ঘোষণা। কৌশলগত পরিকল্পনা ও বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের পথে। কাঠামোগত পরিবর্তন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই প্রকল্প জেলার সুবিধাবঞ্চিত কিশোর-কিশোরীদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

সভাটিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগের সরকারী উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, ধর্মীয় নেতা, প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং প্রকল্প কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইউসুফ আলী
দিনাজপুর প্রতিনিধি