অ্যাশেজের ছাইদানিতে আগুনঃ ৭৫.১ ওভারে ২০ উইকেট

জশ টাংয়ের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৫২ রানে অলআউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ১১০ রানে ইংল্যান্ড গুটিয়ে যায়। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ব্যাটারদের নাকানিচুবানি খেতে হলো। বোলারদের বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের দিনে অ্যাশেজে ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেল বক্সিং ডে টেস্ট।

অ্যাশেজ ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় এক দিন প্রত্যক্ষ করল মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এমসিজি)। বক্সিং ডে টেস্টের প্রথম দিনেই দুই দলের পতন হয়েছে মোট ২০টি উইকেটের। মেলবোর্নের ঘাসযুক্ত উইকেটে বোলারদের দাপটে ব্যাটাররা ছিলেন একেবারেই অসহায়। মাত্র ৭৫.১ ওভারের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে দুই দলের প্রথম ইনিংস, যা অ্যাশেজের ১৪৮ বছরের ইতিহাসে বিরল এক রেকর্ড হিসেবে নাম লিখিয়েছে।

পেসারদের তোপে তাসের ঘরের মতো ভাঙন

সকালে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন স্বাগতিক অধিনায়ক। কন্ডিশনের পুরো ফায়দা তুলে নিয়ে অজি পেসাররা শুরু থেকেই চেপে ধরেন সফরকারীদের। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। অজি পেস ইউনিটের তোপে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ইনিংস থামে মাত্র দেড়শ রানের নিচে।

পাল্টা মরণকামড় সফরকারীদের

তবে মধ্যাহ্নভোজের পর পাশা উল্টে যায়। নিজেদের ইনিংস শুরু করতে নেমে একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় অস্ট্রেলিয়াও। ইংলিশ পেসারদের সুইং আর বাউন্সে দিশেহারা হয়ে পড়ে অজি ব্যাটাররা। চা-বিরতির আগেই ম্যাচটি পুরোপুরি বোলারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। দিনের শেষ সেশনে অজিদের ইনিংসও গুটিয়ে গেলে দর্শকরা এক অবিশ্বাস্য রেকর্ডের সাক্ষী হন—এক দিনেই ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন দুই দলের ২০ জন ব্যাটার।

ইতিহাসের পাতায় ৭৫.১ ওভার

অ্যাশেজের ইতিহাসে বক্সিং ডে টেস্টে এর আগে কখনো এত অল্প সময়ে ২০ উইকেটের পতন ঘটেনি। সারা দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৭৫.১ ওভার। এর আগে ১৯০২ সালে মেলবোর্নেই একদিনে ২৫ উইকেট পতনের রেকর্ড থাকলেও, আধুনিক ক্রিকেটে এবং বর্তমান ড্রপ-ইন উইকেটের যুগে এমন ঘটনা নজিরবিহীন।

পিচ কিউরেটরদের তৈরি করা এই ‘গ্রিন টপ’ উইকেট নিয়ে ইতোমধ্যে ক্রিকেট মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে রোমাঞ্চপ্রিয় দর্শকদের জন্য এই বক্সিং ডে ছিল সোনায় সোহাগা। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় দিনে খেলা কোন দিকে মোড় নেয়।

-এম. এইচ. মামুন