টলিউড থেকে রাজনীতি: পার্নো মিত্র তৃণমূলের পথে

পার্নো মিত্রের অভিনয়জীবন শুরু হয় ২০০৭ সালে। রবি ওঝার পরিচালনায় ‘খেলা’ ধারাবাহিক দিয়ে তিনি ছোটপর্দায় অভিষেক করেন। এরপর অঞ্জন দত্তের ‘রঞ্জনা আমি আর আসব না’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় পা রাখেন। তারপর ‘বেডরুম’, ‘মাছ মিষ্টি অ্যান্ড মোর’, ‘রাজকাহিনী’, ‘আলিনগরের গোলকধাঁধা’, ‘অপুর পাঁচালি’, ‘অঙ্ক কী কঠিন’সহ একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। টলিউডে পার্নোর অভিজ্ঞতা এবং খ্যাতি তাঁকে রাজনৈতিক মহলে নজরকাড়া পরিচিতি দিয়েছে।

ভারতের বিধানসভা নির্বাচনের আগে টলিউড অভিনেত্রী পার্নো মিত্র রাজনৈতিক দিকনির্দেশ বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বিরোধী দল ছেড়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে যাচ্ছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সূত্র জানিয়েছে, তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ একজন রাজনীতিবিদ পার্নো মিত্রের দলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজনীতিতে পার্নোর যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালে, যখন তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বরাহনগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেন। সেই নির্বাচনে তিনি তৃণমূল প্রার্থী তাপস রায়ের কাছে পরাজিত হন। এরপরও পার্নো টলিউড এবং রাজনীতির সংযোগ বজায় রেখেছেন। নির্বাচনের আগে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের সঙ্গে দোলযাত্রা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘নৌকাবিহার’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই সময়ের ছবি এবং এই ঘটনাও রাজনীতি ও টলিউড উভয় ক্ষেত্রেই চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল।

শুক্রবার মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে তৃণমূল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে পার্নো দলে যোগ দেবেন। নির্বাচনের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে টলিউডের একাংশ এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলায় বিরোধী দল এখনও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেনি, সেই পরিস্থিতিতে পার্নোর এই পদক্ষেপ নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

পার্নো মিত্রের এই দলবদলকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল সর্তক হয়ে গেছে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ তথাগত রায় ইতিমধ্যেই এই পদক্ষেপের বিষয়ে কটাক্ষ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে পার্নোর দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত তৃণমূলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিরোধীদের জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। পার্নোর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, টলিউডের পরিচিতি এবং জনমানসের প্রতি তার প্রভাব নতুন রাজনৈতিক চিত্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই দলবদল রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনই নির্বাচনের ফলাফলের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। টলিউডের পরিচিত মুখ হিসেবে পার্নোর জনপ্রিয়তা এবং জনসংযোগ ক্ষমতা তৃণমূলের জন্য নির্বাচনী ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, পার্নো মিত্রের তৃণমূল যোগদান কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দৃশ্যপটের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিথী রানী মণ্ডল/