নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলাঃ ব্যাপক প্রাণহানির খবর

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি গোপন আস্তানায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় জঙ্গি সংগঠনটির বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছে এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী ও মার্কিন বিমান বাহিনী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। হামলায় আইএসের ওই অঞ্চলের একটি কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রাগার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

অভিযানের প্রেক্ষাপট: দীর্ঘদিন ধরে নাইজেরিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম এবং আইএসআইএস-ডব্লিউএ (ISWAP) সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়াশিংটন ও আবুজা (নাইজেরিয়ার রাজধানী) সম্মিলিতভাবে এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

মার্কিন বাহিনীর বক্তব্য: ইউএস আফ্রিকা কমান্ড (AFRICOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বিমান হামলায় কোনো বেসামরিক নাগরিকের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তারা আরও জানায়, আফ্রিকা মহাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমনে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা নাইজেরিয়া সরকারকে সহযোগিতা দিয়ে যাবে।

আঞ্চলিক উদ্বেগ: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ফলে জঙ্গিরা সাময়িকভাবে দুর্বল হলেও পাল্টা হামলার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। নাইজেরিয়ার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর নৃশংসতার শিকার হয়ে আসছে। মার্কিন এই সরাসরি হস্তক্ষেপ আইএসের শক্তি কমিয়ে আনবে বলে আশা করছে নাইজেরিয়া সরকার।

এদিকে, হামলার পর ওই এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী। আরও কোনো আস্তানা বা জঙ্গিদের অবশিষ্টাংশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

-এম. এইচ. মামুন