ইসরায়েলের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালিয়েছে ইরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকাররা। একে ইসরায়েলের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সাইবার আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এই হামলায় দেশটির সরকারি ওয়েবসাইট, প্রতিরক্ষা শিল্প, এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট (INCD) জানিয়েছে, ইরানের ‘হানজালা’ (Handala) এবং ‘মাডি ওয়াটার’ (MuddyWater)-এর মতো প্রভাবশালী হ্যাকার গ্রুপগুলো এই সমন্বিত হামলা পরিচালনা করেছে।
হামলার ব্যাপ্তি ও ক্ষয়ক্ষতি:
-
প্রতিরক্ষা ও সামরিক তথ্য: হ্যাকাররা দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের অ্যারো (Arrow) এবং ডেভিডস স্লিং (David’s Sling) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নকশাকারী এবং ড্রোন ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এমনকি এসব ব্যক্তিদের তথ্যের ওপর বড় অঙ্কের পুরস্কারও ঘোষণা করেছে তারা।
-
ভিআইপিদের ওপর নজরদারি: সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হ্যাকাররা ইসরায়েলের বিভিন্ন সড়কের সিসিটিভি ক্যামেরা ও পার্কিং ক্যামেরা হ্যাক করে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের (VIP) গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে।
-
ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস: ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার দাবি করেছে ‘হানজালা’ গ্রুপ। তারা কয়েক হাজার ফোন নম্বর ও ব্যক্তিগত বার্তা সম্বলিত প্রায় ১৪১ পৃষ্ঠার একটি নথি প্রকাশ করেছে।
-
বেসামরিক অবকাঠামো: হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ছোট-মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটাবেজ হ্যাক করে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া: ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তারা এই সাইবার যুদ্ধ মোকাবেলায় ‘অপারেশনাল কো-অপারেশন’ বৃদ্ধি করেছে। হ্যাকারদের নজরদারি থেকে বাঁচতে সম্প্রতি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে একটি নতুন আইন পাস করা হয়েছে, যা দেশটির সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত-কে বেসামরিক নিরাপত্তা ক্যামেরা হ্যাক করে হ্যাকারদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর আইনি বৈধতা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত: প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল তথ্য চুরি নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। হ্যাকাররা সাধারণ নাগরিকদের মনে এই ধারণা তৈরি করতে চাচ্ছে যে, ডিজিটাল জগতে কেউই নিরাপদ নয়। ২০২৫ সাল জুড়েই ইসরায়েলের ওপর সাইবার হামলার হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পেছনে সরাসরি ইরানের রাষ্ট্রীয় মদত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
-এম. এইচ. মামুন









