থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তের বিতর্কিত এলাকায় একটি বিশাল বিষ্ণু মূর্তি সরিয়ে ফেলা বা ভেঙে দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের ইতিহাসে এই ধর্মীয় স্থাপনাটি কেন্দ্র করে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাতঃ
প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, সীমান্তের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় (যেখানে দুই দেশেরই দাবিকৃত ভূমি রয়েছে) সম্প্রতি এই বিষ্ণু মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল। থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের দাবি, মূর্তিটি তাদের ভূখণ্ডে অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা এবং কম্বোডিয়ার কিছু মহলের দাবি, এটি তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ এবং মূর্তির ওপর এই আঘাত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার শামিল।
উত্তেজনার কারণঃ
থাই-কম্বোডিয়া সীমান্ত, বিশেষ করে প্রিহ ভিহিয়ার (Preah Vihear) মন্দির সংলগ্ন এলাকাগুলো নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে।
-
সীমানা নির্ধারণ: দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় ছোটখাটো স্থাপনা নির্মাণও বড় ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়।
-
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগ: বিষ্ণু মূর্তিটি সরানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুই দেশের নেটিজেনদের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়।
সরকারি অবস্থানঃ
থাই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমানা রক্ষার তাগিদে এবং কোনো দেশের সাথে সম্পর্কের অবনতি না ঘটিয়ে কেবল আইনি প্রক্রিয়া মেনেই অবৈধ স্থাপনাটি সরানো হয়েছে। তবে কম্বোডিয়ার স্থানীয় সূত্রগুলো একে ‘উস্কানিমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঃ
উল্লেখ্য যে, ১৯০৪ সালে ফরাসি মানচিত্র অনুযায়ী এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক আদালত (ICJ) অধিকাংশ বিতর্কিত জমি কম্বোডিয়াকে দিলেও থাইল্যান্ড সেই মানচিত্রের কিছু অংশ মেনে নিতে অস্বীকার করে আসছে।
সাম্প্রতিক এই বিষ্ণু মূর্তির ঘটনা সেই পুরনো ক্ষতকেই আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলল।
-এম. এইচ. মামুন










