মধ্যপ্রাচ্যে দশকের পর দশক ধরে বজায় থাকা ইসরায়েলের ‘গুণগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব’ বা কিউএমই (Qualitative Military Edge) এখন এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সৌদি আরবের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ঘনিষ্ঠতা এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা এই অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্যের পুরনো সমীকরণ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ট্রাম্পের ‘সেরা অস্ত্র’ নীতিঃ ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের মূল ভিত্তি হলো প্রতিবেশীদের তুলনায় প্রযুক্তিতে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকা। মার্কিন আইন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এমন কোনো অস্ত্র আরব দেশগুলোর কাছে বিক্রি করতে পারে না যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সমমানের এফ-৩৫ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিসম্পন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়ে যায়, তবে কয়েক দশকের পুরনো সেই একক আধিপত্য আর থাকবে না।
কেন এই পরিবর্তন? বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থানের পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করছে:
১. বাণিজ্যিক স্বার্থ: সৌদি আরবের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং বিশাল অংকের অস্ত্র চুক্তি মার্কিন অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখবে।
২. চীনকে ঠেকানো: সৌদি আরব যেন রাশিয়ার বা চীনের সামরিক বলয়ে ঝুঁকে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন রিয়াদকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে ভাগ দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ কী? যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলকে আশ্বস্ত করেছেন যে তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা হবে, কিন্তু ট্রাম্পের ‘বিজনেস ফার্স্ট’ নীতি সেই প্রতিশ্রুতিকে কতটা রক্ষা করবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে সৌদি আরবকে ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা দেশটিকে মার্কিন অস্ত্রাগারের অনেক সংবেদনশীল প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এখন বড় প্রশ্ন—ট্রাম্প কি কেবল ব্যবসার খাতিরে ইসরায়েলের একক শ্রেষ্ঠত্বের যুগ শেষ করে দেবেন, নাকি এর বিনিময়ে রিয়াদ-তেল আবিব স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির মতো কোনো বড় কূটনৈতিক ‘ডিল’ সম্পন্ন করবেন?









