বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলা ও অভিযানে নিহতের সংখ্যা ২৫০ছাড়াল

ছবিঃ সংগৃহীত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গত শনিবার থেকে ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। হামলাকারীদের ধরতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে।

পাকিস্তানে দশকের পর দশক ধরে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিদ্রোহ চলছে। আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তবর্তী খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এ প্রদেশে প্রায় সময় নিরাপত্তা বাহিনী, বিদেশি নাগরিক এবং অন্যান্য প্রদেশ থেকে আসা পাকিস্তানিদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৯৭ জন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমন্বিত হামলায় অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ২২ জন সদস্য নিহত হন।

সপ্তাহান্তে বেলুচিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ব্যাংক, কারাগার, থানা ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর পর থেকে প্রদেশটির কয়েকটি জেলায় এখনো বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ চঙ্খ গত রোববার বেলুচিস্তানের কোয়েটায় সংবাদ সম্মেলনে প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেন, ‘হামলার শিকার হওয়া সব জেলা এখন নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা তাদের পিছু ধাওয়া করছি। তাদের সহজে ছেড়ে দেওয়া হবে না।’

বেলুচিস্তানের সবচেয়ে বেশি সক্রিয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, তারা সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে। বিএলএকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত বিএলএ কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশ থেকে বেলুচিস্তানে কাজ করতে আসা ব্যক্তিদের ওপর হামলা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি সেখানে অবস্থিত বিদেশি জ্বালানি কোম্পানির প্রতিষ্ঠানেও হামলা বাড়িয়েছে। গত বছর এ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলা চালিয়েছিল। এতে অনেকে নিহত হয়েছিলেন। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ট্রেনটি দুই দিন অবরোধ করে রেখেছিল। এতে ৪৫০ যাত্রী ছিলেন।

গত মঙ্গলবার বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে ‘জঘন্য ও কাপুরুষোচিত’ বলে নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

– বেলাল হোসেন