আর কখনোই প্রশাসনিক আদেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা যাবে না। একই সঙ্গে সিম কার্ড ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে নাগরিকদের ওপর নজরদারি করাকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এমন যুগান্তকারী ধারা অন্তর্ভুক্ত করে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ’-এর সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে সরকার।
সংশোধিত অধ্যাদেশের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
-
ইন্টারনেট অধিকার নিশ্চিতকরণ: যেকোনো পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট সেবা চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন থেকে রাষ্ট্রীয় কোনো অজুহাতেও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করা যাবে না।
-
নজরদারি নিষিদ্ধ: সিম কার্ড বা ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালানোকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার আরও শক্তিশালী হলো।
-
রাষ্ট্রীয় সার্ভেইলেন্স কাঠামো পরিবর্তন: রাষ্ট্রের নজরদারি বা সার্ভেইলেন্স ব্যবস্থায় গঠনমূলক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়।
-
সেবার মানোন্নয়ন: অধ্যাদেশটিতে টেলিযোগাযোগ সেবার মান বৃদ্ধি এবং সঠিক রেগুলেশনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লাইসেন্সের আবেদন থেকে শুরু করে সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সময় কমানো হয়েছে। এছাড়া আগের আইনে বর্ণিত উচ্চ জরিমানা, রিকারিং জরিমানা কমানো হয়েছে, যা টেলিযোগাযোগ খাত বিনিয়োগবান্ধব করবে। এখন থেকে প্রতি চার মাসে বিটিআরসিকে গণশুনানি করতে হবে, তার ফলোআপ ওয়েবসাইটে রাখতে হবে এবং কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট রোধেও বিধান রয়েছে।
এতে আরও জানানো হয়, সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে কোনো নাগরিককে নজরদারি বা অযথা হয়রানি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ করা হয়েছে। ‘স্পিচ অফেন’ সম্পর্কিত নিবর্তনমূলক ধারা পরিবর্তন করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারাবাহিকতায় কেবল সহিংসতার আহ্বানকেই অপরাধের আওতাভুক্ত রাখা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ সেবার ক্ষেত্রে আপিল এবং সালিশ বিষয়ক ধারা রাখা হয়েছে। ‘সেন্টার ফর ইনফর্মেশন সাপোর্ট প্রতিষ্ঠা’ করা হয়েছে।
গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সংশোধিত অধ্যাদেশটি পাস হয়। পরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
-এম. এইচ. মামুন










