বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুজাতা আজিম একসময় লোককাহিনিনির্ভর সিনেমা ‘রূপবান’-এর মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন। সময়ের প্রবাহে পর্দা থেকে অনেকটাই দূরে থাকলেও তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও অবদান আজও স্মরণীয়। সেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলতেই শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সাপ্তাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অক্ষরের গল্পে’ অতিথি হয়ে হাজির হচ্ছেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।
অনুষ্ঠানে সুজাতা আজিম নিজের জীবনের নানা অধ্যায় তুলে ধরবেন। শৈশবের স্মৃতি, অভিনয়জগতে প্রবেশের গল্প, চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার সংগ্রাম এবং কীভাবে তিনি দর্শকের কাছে ‘রূপবান’ হয়ে উঠেছিলেন—সবকিছুই উঠে আসবে তাঁর বর্ণনায়। একজন অভিনেত্রী হিসেবে যেমন তাঁর উত্থানের গল্প থাকবে, তেমনি থাকবে সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া চলচ্চিত্র জগতের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি।
আরটিভি সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানটি নির্মিত হয়েছে প্রযোজক সুজন আহমেদের তত্ত্বাবধানে। উপস্থাপনায় রয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। অনুষ্ঠানটি আজ বুধবার বিকাল ৫টায় আরটিভির পর্দায় সম্প্রচারিত হবে। সংস্কৃতি ও শিল্পমনস্ক দর্শকদের জন্য এই পর্বটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুজাতা আজিমের জন্ম ১৯৪৭ সালে কুষ্টিয়ায়। তাঁর পারিবারিক নাম তন্দ্রা মজুমদার। বাবা গিরিজানাথ মজুমদার এবং মা বীণা পানি মজুমদার। খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মে তাঁর। ১৯৬৩ সালে ‘ধারাপাত’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তাঁর। সিনেমায় আসার পর নির্মাতা সালাউদ্দিন তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘সুজাতা’, যা পরবর্তীতে দর্শকের কাছে পরিচিত নাম হয়ে ওঠে।
অভিনয়জীবনের শুরুতে কয়েকটি সিনেমায় কাজ করার পর ১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত লোককাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘রূপবান’ তাঁকে এনে দেয় বিপুল জনপ্রিয়তা। এই সিনেমা শুধু তাঁর ক্যারিয়ার নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসেও একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। ‘রূপবান’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের আবেগ ছুঁয়ে যায় এবং লোকজ গল্পকে সিনেমার পর্দায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
১৯৬৭ সালে অভিনেতা ও প্রযোজক আজিমকে বিয়ে করার পর তিনি সুজাতা আজিম নামে পরিচিত হন। সংসার ও পারিবারিক জীবনে মনোনিবেশের কারণে ধীরে ধীরে তিনি অভিনয় থেকে দূরে সরে যান। তবে পর্দার আড়ালে থাকলেও বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান কখনোই বিস্মৃত হয়নি। সেই স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা এবং ২০২১ সালে দেশের অন্যতম রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক।
‘অক্ষরের গল্পে’ অনুষ্ঠানে সুজাতা আজিমের উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিথী রানী মণ্ডল/










