শুভ বড়দিনে শিল্পকলা একাডেমিতে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় একাডেমির উন্মুক্ত নন্দনমঞ্চে শুরু হবে এই বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং শিল্পকলা একাডেমির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই আয়োজনের লক্ষ্য শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।

অনুষ্ঠান সামনে রেখে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলছে ব্যস্ত প্রস্তুতি। নন্দনমঞ্চে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ মঞ্চসজ্জা, বসানো হচ্ছে আলোকসজ্জা ও শব্দব্যবস্থা। বুধবার বিকেলে একাডেমির অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কারিগররা শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভিডিও বার্তায় দর্শকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলা হয়, “বড়দিন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে—সবাইকে স্বাগত।”

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বড়দিনের আনন্দ ও মানবিক চেতনা তুলে ধরতেই সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানের কর্মসূচি। এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকছে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। পাশাপাশি বড়দিনের ঐতিহ্যবাহী ক্যারল গান ও কীর্তণ পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি একটি মিলনমেলায় রূপ নেবে বলেই প্রত্যাশা আয়োজকদের।

এদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নতুন এক ধারার সূচনা করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে এই প্রথম ঈদুল ফিতর, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে আলাদা সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়েছে। বড়দিনের এই আয়োজনও সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক উদ্যোগের অংশ।

আয়োজকরা মনে করছেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা জোরদার করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিথী রানী মণ্ডল/