‘সেন্সরশিপ’ বিতর্ক: মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইইউ, ফ্রান্স ও জার্মানির তীব্র নিন্দা

ইউরোপীয় অভ্যন্তরীণ বাজারবিষয়ক কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর ইউরোপ বিষয়ে ভাষণের আগে প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্ফিথিয়েটারে তাকিয়ে আছেন। ছবি: রয়টার্স

অনলাইন ঘৃণাবক্তব্য ও ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় যুক্ত ইউরোপীয় নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ফ্রান্স ও জার্মানি। তারা এ সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছে। ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সাবেক ইইউ কমিশনার থিয়েরি ব্রেটনসহ পাঁচ ইউরোপীয় নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সেন্সরশিপে ভূমিকা রেখেছেন এবং মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অন্যায্যভাবে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছেন। ইউরোপীয় কমিশন এ সিদ্ধান্তকে “জোরালোভাবে নিন্দা” জানিয়ে বলেছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রক স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় প্রয়োজন হলে তারা “দ্রুত ও দৃঢ়” পদক্ষেপ নেবে।

এই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইইউর ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ)—অনলাইন পরিবেশকে নিরাপদ করতে বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবৈধ কনটেন্ট দমনে বাধ্য করার আইন। ডিএসএর অন্যতম রূপকার ব্রেটনই ছিলেন নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে আলোচিত লক্ষ্য।

এর আগে চলতি মাসে অনলাইন কনটেন্ট বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ইলন মাস্কের এক্স (X) প্ল্যাটফর্মকে ১২ কোটি ইউরো জরিমানা করে ইইউ, যা মার্কিন কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ করে এবং ব্রাসেলসের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা জোরদার করে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন,

ভিসা নিষেধাজ্ঞাগুলো “ইউরোপের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব দুর্বল করার লক্ষ্যে ভয় দেখানো ও চাপ প্রয়োগের শামিল।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডিএসএ একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গৃহীত হয়েছে। জার্মানির বিচার মন্ত্রণালয় দুই জার্মান কর্মীর ওপর নিষেধাজ্ঞাকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দিয়ে জানায়, ইউরোপের ডিজিটাল নিয়মকানুন “ওয়াশিংটনে নির্ধারিত হয় না।”

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ব্রিটিশ ও জার্মান ভুয়া তথ্যবিরোধী কর্মীরাও রয়েছেন। গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইনডেক্স একে “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কর্তৃত্ববাদী আক্রমণ” বলে মন্তব্য করেছে।

এই ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ছবি: রয়টার্স

মানসুরা মানজিল চৈতী/