ভোট পিছানোর চেষ্টা চলবে না: বিএনপি নেতা খসরু

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনের প্রসঙ্গে কোনো স্বার্থপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, “একটি গোষ্ঠী নির্বাচন চায় না। যদি দেশের মানুষ তাদের মালিকানা ফিরে না পান, তাহলে যারা লাভবান হবে বলে মনে করছে, তাদের বিষয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ স্বাভাবিক।”

আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত বাণিজ্য সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন তিনি। একই সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা, জাতীয় নির্বাচন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যা, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং এনসিপির শ্রমিক সংগঠনের নেতা মো. মোতালেব শিকদারের ওপর গুলির ঘটনা নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি।

আমীর খসরু জানান, ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। তিনি ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একই রাত দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটে। সংহতি প্রকাশ করতে ডেইলি স্টার অফিসে গেলে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরকেও হেনস্তা করা হয়। এছাড়া খুলনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. মোতালেব শিকদারকে গুলি করা হয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “একটি গোষ্ঠী যদি নির্বাচন পেছাতে চায়, তার উদ্দেশ্য নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ থাকবে।” তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে তিনি ইতিবাচক আখ্যায়িত করে বলেন, “তার শারীরিক উপস্থিতি দল ও দেশের মানুষকে উৎসাহিত করবে। দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তার সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”

ব্যবসায়িক বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এবং জটিল অনুমতি ব্যবস্থার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে ব্যবসার খাতে আমলাতান্ত্রিক হয়রানি কমানো হবে। তিনি আরও জানান, এসএমই খাতকে শক্তিশালী না করলে জিডিপি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব নয়।

এর জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা, বন্দরে অ্যালগরিদমভিত্তিক কনটেইনার পরীক্ষা চালু করা হবে। এছাড়া গ্রামীণ কারিগর, নারী উদ্যোক্তা এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পীদের জন্য কম সুদের ঋণ, ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিং সহায়তা দেওয়া হবে। এই উদ্যোগ দেশের শিল্পী ও উদ্যোক্তাদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, “দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে দায়িত্বশীল এবং সক্রিয় নেতৃত্ব প্রয়োজন, যা দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।”

বিথী রানী মণ্ডল/