ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক নানা কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছে নির্বাচন কমিশন। নতুন সংসদের যাত্রা শুরু এবং সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিও কমিশনের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক দিকগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি, নির্বাচকমণ্ডলী চূড়ান্তকরণ এবং ভোটগ্রহণ পদ্ধতি নিয়ে কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হয়নি, তবুও নীতিগত আলোচনা এগিয়ে চলছে।
এদিকে, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মূল্যায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রতিনিধিরা ঢাকায় বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া, ভোটগ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয়ে তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষকদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের ভেতরে একই সঙ্গে চলমান রয়েছে নির্বাচন-পরবর্তী রুটিন প্রশাসনিক কার্যক্রম। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট চূড়ান্তকরণ, সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি, প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় হিসাব জমা ও যাচাই, পর্যবেক্ষক রিপোর্ট সংগ্রহ এবং নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা বা অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যালোচনা।
কমিশন কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সব কার্যক্রম নির্ধারিত বিধি অনুসারেই সম্পন্ন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ পরবর্তী বড় আয়োজনগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় কমিশনের এসব তৎপরতা এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
-এজাজ আহম্মেদ/মামুন










