দক্ষিণ সুদানের আরো একটি গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হওয়া কেবল রাষ্ট্রীয় দূর্বলতার ফল নয়। বরং এটি এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার অনিবার্য উপজাত, যা দেশকে অস্থির রাখার মাধ্যমেই জ্যান্ত থাকে। ২০১১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে নির্বাচন, একটি স্থায়ী সংবিধান এবং একটি ঐক্যবন্ধ রাষ্ট্রের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বারবার স্থগিত হয়েছে। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ সুদানে এখন পর্যন্ত একটি ও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হ্যানি। অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদ চার-চার বার বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬ সালে নির্বাচনের পরিকল্পনা থাকলেও খুব কম মানুষই মনে করেন যে, তা বাস্তবে ঘটবে।
মূলত, অস্থিরতার মাধ্যমে শাসন করার ক্ষেত্রে সুদানিজ শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থ শুরু হয় ক্ষমতার প্রকৃত প্রয়োগ থেকে। কাগজে-কলমে আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেখানে ক্ষমতার চর্চা হয় না। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রয়ে গেছে অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্কগুলোর হাতে, যা প্রেসিডেন্সি, নিরাপত্তা সেবা, তেলের রাজস্ব এবং জাতিগত পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই নেটওয়ার্কগুলো একধরনের অস্পষ্টতার মধ্য দিয়েই বিকশিত হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন থাকলে তাদের স্বেচ্ছাচারে বাধা আসত। নির্বাচন ঝুঁকিমুক্ত হতো।
হাফেদ আল-ঘুয়েল আরও বলেন- এ ধরনের পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ডাক আসার কথা, কিন্তু তার পরিবর্তে এগুলো স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। দারিদ্র্যকবলিত জনগোষ্ঠীকে ঠিক ততটুকুই ত্রাণ সরবরাহ করা হয়, যাতে করে সম্পূর্ণ ধস না নেমে আসে; আর অর্থায়ন সংকট দেখানো হয় এটা নিশ্চিত করার জন্য যে, সাধারণ মানুষের কষ্ট বেশি দিন থাকবে না। ‘রাষ্ট্র’ যেন এখানে অনুপস্থিতও নয়, আবার কার্যকরও নয়; বরং কেবল নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রেই তার উপস্থিতি চোখে পড়ে।
-মাহমুদ










