বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দিনাজপুর জেলার রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সমাবেশ, মহাসড়ক অবরোধ, মশালমিছিল, কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ ও গলায় প্রতীকী ফাঁসির দড়ি লাগিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন দলটির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা। তাদের এই কোন্দলে আসনগুলোতে জয়ের সুযোগ দেখছে জামায়াত।
৪ ডিসেম্বর এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একেএম কামরুজ্জামানের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই তার বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন এজেডএম রেজওয়ানুল হকের সমর্থকরা। পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তার দাবি, এই আসনে যোগ্য প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক, যিনি দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩২ বছর ধরে দলকে আগলে রেখেছেন এবং এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।
একই চিত্র দেখা যাচ্ছে দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাকের নাম ঘোষণার পর থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়। মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ, গলায় প্রতীকী ফাঁসির দড়ি লাগিয়ে মানববন্ধন এবং মশালমিছিল করেন। তাদের দাবি, ঘোষিত প্রার্থী যোগ্য নন।
দলীয় কোন্দল রয়েছে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) ও দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনেও। দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনজুরুল ইসলাম এবং দিনাজপুর-৪ আসনে আখতারুজ্জামান মিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। এই দুই আসনেই প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনাজপুর-১ আসনে বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রার্থী ঘোষণার বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে আন্দোলন করেন। একই দাবিতে দিনাজপুর-৪ আসনে বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন করেন সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুল হালিম ও মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তাদের বক্তব্য, এসব আসনে প্রার্থী পরিবর্তন না হলে বিএনপি নিশ্চিতভাবে আসন হারাবে।
এদিকে দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আগে তিনি কখনও প্রার্থী হননি। অতীতে এখানে তার বোন খুরশীদ জাহান হক বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। খালেদা জিয়ার মনোনয়নের ফলে এই আসনে নেতাকর্মীরা এককাট্টা হয়েছেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই জেলার ছয়টি আসনেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াত। বিএনপির কোন্দলের সুযোগ নিয়ে ভোটারদের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন দলটির প্রার্থীরা। দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিছুর রহমান বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে জেলার সবগুলো আসনেই জামায়াতের প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা আশাবাদী।
সানা










