শ্রীনন্দার দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতি

ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীনন্দা শঙ্কর  ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে ১৬ বছরের সংসার ভাঙার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণায় ভক্ত এবং টলিউড শিল্পী মহল দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শ্রীনন্দা নিজে লিখেছেন, “আমি এবং গেভ আইনিভাবে আলাদা হয়ে গিয়েছি। অনেকেই হয়তো বিষয়টি আগেই টের পেয়েছেন, কিন্তু এখন সময় এসেছে বিষয়টি জনসমক্ষে আনার। আমাদের আগে কিছুটা সময় প্রয়োজন ছিল।”

শ্রীনন্দা শঙ্কর বলেন, এই সিদ্ধান্ত যৌথভাবে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, “আমরা দুজন ঠান্ডা মাথায় ভেবে-চিন্তে যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য সবসময় শান্তি বজায় রাখা। জীবনের পথে কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত মোড় আসে, এবং তা মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।” তিনি আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য।

শ্রীনন্দা ২০০৯ সালের নভেম্বরে সাতপাকে বাঁধা পড়েন গেভ সাতারাওয়ালার সঙ্গে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছিল বাঙালি এবং পার্সি দুই রীতিতেই। এরপর প্রায় ১৬ বছর সংসার, যেখানে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন একসাথে চলছিল। তবে হঠাৎই শেষমেষ তাদের পথ আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। শ্রীনন্দা এই সম্পর্ক ভাঙার সঠিক কারণ প্রকাশ করেননি। তিনি অনুরোধ করেছেন, “এই বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে বা আমার মায়ের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাবেন না। আমাদের প্রাইভেসিকে সম্মান জানাবেন এবং যোগাযোগ থেকে বিরত থাকুন।”

শ্রীনন্দা শঙ্করের অভিনয়জীবনও সমান সমৃদ্ধ। তিনি সৃজিত মুখার্জির ‘এক যে ছিল রাজা’, সুমন ঘোষের ‘বসুপরিবার’ সহ বহু বাংলা সিনেমায় কাজ করেছেন। তিনি প্রথম সারির নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে দর্শকের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি একজন প্রশিক্ষিত নৃত্যশিল্পী, যা তার চরিত্রে বিশেষ এক আবেগ ও সৌন্দর্য যোগ করে। তবে গত কয়েক বছর ধরে তিনি কলকাতা ছেড়ে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি সংসার ও কাজের ব্যস্ততায় কাটাচ্ছিলেন।

এ ঘটনায় ভক্তরা শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে শ্রীনন্দার এই পোস্টে মন্তব্য করেছেন, যেখানে তাঁরা তার সাহস ও খোলামেলা প্রকাশের প্রশংসা করেছেন। অনেকেই লেখেন, “প্রাইভেসি ও মানসিক শান্তি বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার জন্য শুভকামনা।” শিল্পী মহলও এই পরিস্থিতি সম্পর্কে সমবেদনা জানিয়েছেন।

শ্রীনন্দার ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হলো, ব্যক্তিগত জীবনের তিক্ততা ও চ্যালেঞ্জকেও শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, অভিনেতা বা অভিনেত্রী হওয়া মানেই ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছু জনসমক্ষে প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা নয়। ভক্ত এবং মিডিয়ার প্রতি তার আবেদন প্রাইভেসি রক্ষা ও সম্মান প্রদানের।

১৬ বছরের দীর্ঘ সংসার ভাঙার এই ঘটনা শ্রীনন্দা শঙ্করের জীবনে একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তার পেশাগত জীবন যেমন ব্যস্ত, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনের এই মোড়ও তাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য করবে। ভবিষ্যতে তিনি মুম্বাই-কলকাতা দুই শহরে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানা গেছে। এই সময় ভক্তরা তার পাশে থাকবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করছেন।

বিথী রানী মণ্ডল/