বাংলাদেশে হস্তক্ষেপ নয়, তবে কূটনৈতিক চাপ দেওয়া যেতে পারে: শশী থারুর

শশী থারুর

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে ভারতের কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, তবে কূটনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঢাকাকে “গঠনমূলক পদক্ষেপ” নিতে উৎসাহিত করতে পারে।

ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক হিন্দু পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। নিহত যুবকের নাম দীপু চন্দ্র দাস। হামলার পর তার মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ভারতের করণীয় কী—এমন প্রশ্নের জবাবে এবং বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য বাড়ার প্রসঙ্গে থারুর বলেন, ভারত সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না, তবে কূটনৈতিকভাবে বোঝাতে পারে।

“ভারত কোনো প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কিন্তু যে দেশটি বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি নানা ভাবে অবদান রেখেছে, সেই দেশ হিসেবে আমরা ঢাকায় কূটনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে (ইউনুস) সরকারকে গঠনমূলক পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করতে পারি,” বলেন তিনি।

থারুর শেখ হাসিনার অপসারণের পর গত বছরের ৫ আগ্স্ট থেকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি যেভাবে সামলানো হয়েছে, সে জন্য নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রশংসাও করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করা শক্তিগুলোর প্রতি সমর্থন জোরদার করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে এবং কয়েক দিন আগেই একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। আমরা সরকারের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছি এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করা শক্তিগুলোর প্রতি সমর্থন জানাতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি।”

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

চৈতী/