থাই–কম্বোডিয়া ইস্যুতে আসিয়ান কূটনৈতিক বৈঠক

২৫ অক্টোবর কুয়ালালামপুরে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একত্রিত হন। থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সংঘাত নিয়ে আলোচনা করতে তারা আবার ২২ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার রাজধানীতে বৈঠকে বসছেন। © রয়টার্স

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলমান সীমান্ত সংঘাত নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার কুয়ালালামপুরে বৈঠকে বসেছেন আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

আঞ্চলিক পর্যায়ে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক এমন এক সংঘাতকে কেন্দ্র করে, যাতে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে এবং উভয় দেশে কয়েক লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পরিস্থিতি আসিয়ানের ঐক্যের জন্যও হুমকি হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি মূলত ১৬ ডিসেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়েছিল। রোববার এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি সংঘাত প্রশমন ও সহিংসতা বন্ধে আসিয়ান কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হবে।
চলতি বছর ১১ সদস্যের দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জোট আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে মালয়েশিয়া।
সংঘাতে জড়িত দুই দেশই বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। থাইল্যান্ডের পক্ষে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও এবং কম্বোডিয়ার পক্ষে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী প্রাক সোখন্ন।

থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, আসিয়ান কাঠামোর ভেতরে সংলাপের পথ এখনও খোলা রয়েছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতির জন্য ব্যাংকক তিনটি শর্ত তুলে ধরেছে—কম্বোডিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে, সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বজায় রাখতে হবে এবং সীমান্ত এলাকায় মাইন অপসারণ কার্যক্রমে আন্তরিক সহযোগিতা দেখাতে হবে।
অন্যদিকে কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি শান্তিপূর্ণ সব উপায়, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

থাইল্যান্ডের দাবি, সংঘর্ষে তাদের ২১ জন সেনা ও কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। কম্বোডিয়া সামরিক হতাহতের তথ্য প্রকাশ না করলেও প্রায় ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।
এর আগে অক্টোবরে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত ‘কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইনের বিস্ফোরণে দুই থাই সেনা আহত হওয়ার পর গত মাসে চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত করে থাইল্যান্ড।

সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। গত ১২ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদাভাবে ফোনে কথা বললেও তা সফল হয়নি। এদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদাভাবে ফোনে কথা বলে সংঘাতকে আসিয়ানের ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি চীনের এশীয় বিষয়ক বিশেষ দূত ফনম পেন সফর করে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান।

সূত্র: নিক্কেই এশিয়া

চৈতী/