হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা জরুরি

বর্তমান সময়ে রক্তচাপ বা প্রেশারের উর্ধ্বগতি একটি নীরব কিন্তু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। অনেক সময় কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ প্রেশার বেড়ে যায়, আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে প্রকাশ পায়। সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো—অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাদের প্রেশার বেড়েছে, যতক্ষণ না বড় কোনো জটিলতা দেখা দেয়। তাই প্রেশার বেড়ে গেলে প্রাথমিকভাবে কী করা দরকার, তা জানা থাকলে সময়মতো সতর্ক হওয়া সম্ভব।

রক্তচাপ কী?

রক্তচাপ হলো রক্তনালীর ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার চাপ। সাধারণত এটি দুটি সংখ্যায় মাপা হয়—উপরের চাপ (সিস্টোলিক) এবং নিচের চাপ (ডায়াস্টোলিক)। নির্ধারিত মাত্রার বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেশার বলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি সমস্যা ও চোখের ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্রেশার হঠাৎ কেন বাড়ে?

রক্তচাপ বাড়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন:

অতিরিক্ত মানসিক চাপ, রাগ বা ভয়,ঘুমের অভাব,লবণযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া,ধূমপান, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়,দীর্ঘ সময় শারীরিক পরিশ্রম বা হঠাৎ উত্তেজনা,যারা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তারা যদি ওষুধ নিয়মিত না নেন

প্রেশারের সাধারণ লক্ষণ

অনেক সময় প্রেশার বেড়ে গেলেও লক্ষণ স্পষ্ট হয় না। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ হতে পারে:

মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা,চোখে ঝাপসা দেখা,বুক ধড়ফড় করা,অস্বস্তি বা বমি ভাব,অতিরিক্ত ঘাম,দুর্বল বা অস্থির লাগা,

প্রেশার বেড়ে গেলে করণীয়

শান্ত থাকুন: আতঙ্ক মানসিক চাপ বাড়ায় এবং রক্তচাপ আরও বাড়তে পারে।

বসুন বা শুয়ে পড়ুন: শান্ত জায়গায় বসে বা শুয়ে শরীর ও মাথা সামান্য উঁচুতে রাখলে আরাম পাওয়া যায়।

গভীর শ্বাস নিন: নাক দিয়ে ধীরে শ্বাস নিন, কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন, মুখ দিয়ে ধীরে ছাড়ুন।

খাবার ও পানীয় সতর্কভাবে নিন: লবণ, তেল, ঝাল, কফি বা এনার্জি ড্রিংক সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে।

পানি পান করুন: ডিহাইড্রেশন রক্তচাপ বাড়াতে পারে, অল্প অল্প করে পানি পান করুন।

ওষুধ যাচাই করুন: যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তারা ওষুধ ঠিকমতো খাচ্ছেন কি না তা নিশ্চিত করুন। নিজের ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

প্রেশার বারবার বেশি হলে,তীব্র মাথাব্যথা হলে,বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে,চোখে সমস্যা হলে,হাত-পা অবশ হয়ে গেলে

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যদি সচেতনতা থাকে। নিয়মিত রক্তচাপ মাপা, স্বাস্থ্যকর খাবার, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই এর মূল চাবিকাঠি। কারণ প্রেশার বেড়ে গেলে সবচেয়ে জরুরি হলো—দ্রুত জানা এবং সচেতন হওয়া।

অবি/