১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে জন্ম হয়েছিল স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের – আর সেই বিজয় দিবসের ৪৫তম বার্ষিকী উদযাপিত হবে আগামীকাল শুক্রবার।
একাত্তরের বিজয় দিবসের ঠিক আগের দু সপ্তাহ ধরে চলেছিল তীব্র যুদ্ধ – যার একদিকে ছিল পাকিস্তানি সেনা, আর অন্যদিকে ভারতীয় সেনা আর বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী।
ভারত কীভাবে নিয়েছিল সেই সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি, পাকিস্তানি বাহিনীর তুলনায় কোথায়ই বা ছিল তাদের সুবিধা বা অসুবিধা?
একাত্তরের ৩রা ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনা যখন একযোগে ভারতের মোট এগারোটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়, সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা সেনা অভিযানের কথা ঘোষণা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে পুরাদস্তুর যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় সেদিন থেকেই, যদিও তার প্রস্তুতিপর্বটা চলছিল আগের বেশ কয়েক মাস ধরে।
যুদ্ধবিদ্যার বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জি বলছিলেন, এই দেরিটা ছিল ইচ্ছাকৃত – কারণ ভারতের তখন তৈরি হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দরকার ছিল।
তিনি বলছেন, “মার্চে পূর্ব পাকিস্তানে ক্র্যাকডাউন শুরু হওয়ার পর পরই কোনও সামরিক অভিযানের কথা ভাবাটা সম্ভব ছিল না। সেটা একদিক থেকে ভাল সিদ্ধান্তই আমি বলব, ফিল্ড মার্শাল ম্যানেকশও তখনই অভিযান চালানোর পক্ষে ছিলেন না। মনে রাখতে হবে, ভারতীয় সেনা কিন্তু তার আগে কোনও দিনই পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধ করতে হবে ভেবে কোনও প্রস্তুতি নেয়নি। ফলে দেরিটা করা হয়েছিল সে জন্যই।”
তখনকার ভারতীয় সেনাপ্রধান স্যাম মানেকশ-ও পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ২৭ এপ্রিল ক্যাবিনেট মিটিংয়ের পরই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাকে ডেকে বলেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে এই অবস্থা চলছে – ভারত কেন সেনা অভিযান চালাবে না?










