‘একজন ভালো আর সবাই খারাপ’—আওয়ামী লীগ আমলের এই প্রচার এখনো চলছে বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এটার পরিবর্তন হতে হবে।
‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এ কথা বলেন। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সারা দেশের ৭৫টি ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ের এক হাজারের বেশি নেতা অংশ নেন।
বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রে মানুষ বিভিন্ন মতামত দেবে। মতামত দেওয়ার অধিকার তার আছে। বক্তব্য রাখার অধিকার তার আছে। কিন্তু অবশ্যই একজন ভালো আর বাকি সবাই খারাপ, এটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।’
এই ধারণার পরিবর্তন হতে হবে—উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। একজন বিশেষ কেউ ভালো, বাকি সবাই খারাপ—এটি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ডেঞ্জারাস (বিপজ্জনক) একটা ব্যাপার।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেশকে সৎ মানুষের শাসন দেব, আমরা দেশে ন্যায়বিচার স্থাপন করব, আমরা দেশে এই করব, এসব ভেক টার্মে অনেকের অনেক বক্তব্য আছে অনেক রাজনৈতিক দলের। কিন্তু আজ সারা দিন তোমরা একদম স্পেসিফিক প্রিসাইসলি (সুনির্দিষ্টভাবে) মানুষকে টাচ করে, মানুষের জীবনকে স্পর্শ করে, মানুষের জীবনকে গড়ে তোলে এই রকম প্রিসাইজ আলোচনা আর কোনো রাজনৈতিক দল করেছে?’
আজ সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপি যাঁদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তাঁদের জন্য কাজ করতে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘হয়তো এমনও হতে পারে তোমার এলাকায় যেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে… একটা তো সিদ্ধান্ত নিতেই হবে আমাদের। আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কমবেশি যেটা মনে হয়েছে, ভালো হবে, আমরা সেটি নিয়েছি। হয়তো তুমি একজনকে পছন্দ করতে, সে হয়তো পায়নি। যে পেয়েছে তার সঙ্গে হয়তো তোমার সম্পর্ক আছে, হয়তো অতটা নয়, একটু কম সম্পর্ক। ভাইরে, তুমি তো প্রার্থীর জন্য কাজ করছো না, তুমি তো তোমার ধানের শীষের জন্য কাজ করছো।’
অনুষ্ঠানে বিএনপির যেসব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির পরিকল্পনাগুলোর সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আগামী দুই মাসের কাজ হলো, জনগণকে বিএনপির পরিকল্পনাগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাদের সমর্থন জোগাড় করা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনা করেন আরেক যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান (সোহেল)।










