লিভারের সমস্যায় ত্বকে দেখা দেয়

লিভারে সমস্যা দেখা দিলে শরীর তার সংকেত দ্রুতই দেয়। বিশেষ করে ত্বকে কিছু পরিবর্তন দেখা গেলে তা কিন্তু লিভারের গুরুতর অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে। এসব লক্ষণ শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সহজ হয়। লিভারের রোগে ত্বকে কোন পরিবর্তনগুলো দেখা দেয়—জেনে রাখা জরুরি।

জন্ডিস: ত্বক ও চোখ হলুদ হওয়া

লিভারের রোগের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো জন্ডিস। এ অবস্থায় ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। লোহিত রক্তকণিকা ভাঙার পর তৈরি হওয়া বিলিরুবিন যখন লিভার সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করতে পারে না, তখন এটি রক্তে জমে শরীরকে হলুদ আভা দেয়। জন্ডিস হালকা থেকে মারাত্মক পর্যায় পর্যন্ত হতে পারে; তাই এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ত্বকে অস্বাভাবিক রক্তনালী পরিবর্তন

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগে ত্বকে দেখা যায় অস্বাভাবিক রক্তনালীর ছাপ। মুখ, ঘাড় ও বুকে দেখা দেওয়া ছোট লাল মাকড়সার মতো দাগকে বলা হয় স্পাইডার অ্যাঞ্জিওমা। আর হাতের তালু লাল হয়ে যাওয়াকে বলা হয় পালমার এরিথেমা। লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় হরমোন ও রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন থেকেই এসব লক্ষণ দেখা দেয়।

ত্বকে চুলকানি (প্রুরিটাস)

ফুসকুড়িবিহীন তীব্র চুলকানি লিভারের অসুখের একটি সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর উপসর্গ। লিভার পিত্ত সঠিকভাবে নিঃসরণ করতে না পারায় পিত্ত লবণ রক্তে জমে— যা ত্বকে গিয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং চুলকানি বাড়ায়। এই চুলকানি অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জীবনের মান নষ্ট করে; তাই চিকিৎসা জরুরি।

হাইপার-পিগমেন্টেশন ও নখের পরিবর্তন

লিভারের রোগে ত্বকে কালো বা গাঢ় দাগ দেখা দিতে পারে, যা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের কারণে হয়। এছাড়া নখেও দেখা দিতে পারে পরিবর্তন—

টেরির নখ: নখ প্রায় সাদা, শুধু ডগায় সরু গোলাপি ব্যান্ড

মুয়ের্কের লাইন: নখ জুড়ে সাদা ব্যান্ড ,এসবই লিভারের কার্যকারিতা ও প্রোটিন বিপাক ব্যাহত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

লিভারের সমস্যার এসব ত্বকের লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।