শেরপুরের নকলায় বিএসটিআইয়ের নকল লোগো ব্যবহার করে সেমাই, আইসক্রিম, চিপস, চানাচুর ও মটর ভাজাসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে দুটি কারখানাকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুখাদ্য উৎপাদনের প্রমাণও পাওয়া গেছে অভিযানে।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। অভিযান পরিচালনা করেন নকলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পূর্ব চিথলিয়া ও জালালপুর এলাকায় অবস্থিত ‘আলিফ ফুড এন্ড বেকারী’ এবং ‘মিথিল আইসক্রিম এন্ড ফুড প্রোডাক্ট’ নামের দুটি কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠান দুটির কোনো অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও তারা বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করছিল। লোগো ব্যবহারের অনুমোদনপত্র, কারখানা স্থাপনের অনুমোদন, পরিবেশ ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে দেখা যায়, কারখানাগুলোতে মান নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো ল্যাব নেই। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খালি হাতে উৎপাদিত পণ্য বাইরে থেকে আনা মোড়কে ভরে বাজারজাত করা হচ্ছিল।
মিথিল ফুড প্রোডাক্ট কারখানায় চানাচুর ১ হাজার ২০০ পিস, চিপস ২ হাজার ৪০০ পিস, মটর ভাজা ১ হাজার ৪০০ পিস, ‘ফাটাফাটি’ চিপস ২ হাজার ৪০০ পিস, পটেটো চিপস ২০০ পিস এবং খোলা অবস্থায় ৮ হাজার ৮২০ প্যাকেট চিপস জব্দ করা হয়। বিভিন্ন নামে উৎপাদিত নকল আইসক্রিম ধ্বংস করা হয়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, আলিফ ফুড এন্ড বেকারী থেকে ৭১০ কেজি সেমাই জব্দ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযানে বিএসটিআই কর্মকর্তা রাহাত আহমেদ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
-সাইমুন










