২৬ দিনে ৯ বার কাঁপল দেশ: বড় দুর্যোগের অশনিসংকেত দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

গতরাতের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ বৃহস্পতিবার দুপুরেও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। এ নিয়ে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মাত্র ২৬ দিনে মোট ৯ বার ভূমিকম্প অনুভূত হলো। ঘন ঘন এই কম্পন বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ ও জনমনে প্রবল আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে এই কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৬। সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, এই মৃদু ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৪৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভারতের সিকিম রাজ্যে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দেশজুড়ে ধারাবাহিকভাবে কম্পন অনুভূত হচ্ছে:

  • ১ ফেব্রুয়ারি: সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পন।

  • ৩ ফেব্রুয়ারি: একদিনে তিনবার কম্পন (সাতক্ষীরায় ৪.১ এবং মিয়ানমারে ৫.৯ ও ৫.২ মাত্রা)।

  • ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি: সিলেটে আরও দুবার কম্পন।

  • ১৯ ফেব্রুয়ারি: সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প।

  • ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার রাত ১০:৫১): মিয়ানমারে সৃষ্ট ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প।

  • ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার দুপুর ১২:০৪): ভারতের সিকিমে সৃষ্ট ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্প।

ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানান, এই ঘন ঘন ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবেই ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। তাঁর মতে, “ভূত্বকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমা হয়ে থাকলে তা বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করে। এই ছোট কম্পনগুলো আসলে নির্দেশ করছে যে ভূ-অভ্যন্তরে বড় ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বর্তমান প্রস্তুতি এখনও কেবল উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অবকাঠামোগত ঝুঁকি কমাতে কঠোরভাবে বিল্ডিং কোড অনুসরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। বড় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ, নিয়মিত মহড়া এবং ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপনা নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।

লামিয়া আক্তার