হত্যার হুমকিদাতা আওয়ামী লীগের সমর্থকের বাড়ির কাছে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী।
আওয়ামী লীগের সমর্থক ও বিএনপি নেতাকর্মীসহ স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পক্ষে বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নানা পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এখনো কোনপক্ষই থানায় অভিযোগ দেননি। স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার ইফতারের পরে পঞ্চগড়ের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী ফেইসবুকে পোস্ট করেন, ‘মরার জন্য যাচ্ছি। দোয়া করবেন।’ এরপরে দেখা যায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকার আওয়ামীলীগের সমর্থক আব্দুর রউফের বাড়ির কাছে গিয়ে লাইভে এসে তাদের ডাকাডাকি করছেন ফজলে রাব্বী।
এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, আব্দুর রউফ ও তার ভাই নাকি আমাকে হত্যা করবে। আমি তার বাসার সামনে এসেছি। আজ ও মরবে না হয় আমি মরবো। এর কিছুক্ষণ পরে বিএনপি কয়েকশ বিএনপি নেতাকর্মী, কিছু আওয়ামীলীগের সমর্থকসহ ওই পরিবারের লোকজনের তোপের মুখে পড়েন রাব্বী।
তারা মব সৃষ্টির অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে রাব্বীকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
সমন্বয়ক ফজলে রাব্বীর দাবি, মঙ্গলবার বিকেলে ওই এলাকার আওয়ামীলীগের সমর্থক ও আওয়ামীলীগের ফেইসবুক এক্টিভিস্ট আব্দুর রউফের ছোট ভাই রব্বানি তাকে ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ ও কল করে সরাসরি হত্যা হুমকি দেয়। এর প্রতিবাদ করতে তাদের বাড়ির কাছাকাছি গেলে রব্বানি লাঠি নিয়ে বের হয়ে আসে।
কিছুক্ষণ পরে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির লোকজন এসে আমি মব সৃষ্টি করছি এমন অভিযোগ তুলে আমাকে উল্টো দোষারোপ করতে থাকে। রাব্বী বলেন, আমি মব সৃষ্টি করতে চাইলে একা যেতাম না। আমাকে এমনও বলা হয়েছে আজ আমার দিন শেষ। আমাকে বিদায় নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আমি প্রতিবাদ করতে গিয়েছি মাত্র। দেখতে চেয়েছি তাদের সাহস কতটা।
গণঅভ্যত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আমাদের সরাসরি হত্যার হুমকি দেয়া হবে আমরা চুপ করে থাকবো তা হয় না। আমি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। রব্বানীর বড় ভাই আব্দুর রউফ বলেন, আমি আওয়ামীলীগের সমর্থক। ঘটনার সূত্রপাত ৫ আগস্টের পরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দল নিয়ে পরস্পরের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়িকে কেন্দ্র করে। ফজলে রাব্বি কয়েকবার আমার ছবিসহ পোস্ট করে আমাকে হেয় করে। পুলিশ দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করে।
আমি শুনেছি আমার ভাইয়ের সাথে ফজলে রাব্বীর বাকবিতন্ডা হয়েছে। আমার ভাইয়ের একটু মানসিক সমস্যা আছে। বাক বিতন্ডার সময় উভয়েই উভয়কে হুমকি দিয়েছে। এই জেরে রাতে রাব্বী আমার বাসার সামনে গিয়ে বেসামাল কথাবার্তা ও হুমকি দেয়। মব সৃষ্টির চেষ্টা করে। পরে আমি এলাকার লোকজন ও প্রতিবেশিসহ পুলিশকে অবহিত করলে তারা রাব্বীকে সেখান থেকে থানায় নিয়ে যায়। আমরা এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি প্রচন্ড উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখান থেকে ফজলে রাব্বিকে এনে জেলা জামায়াতের আমিরের জিম্মায় দেয়া হয়। এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় মামলা করেনি।
–আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, পঞ্চগড়










