কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি নবনির্মিত এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতের এই ঘটনায় আশপাশের ১০টি বসতবাড়ি এবং ২০-২৫টি পর্যটকবাহী জিপ গাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ‘এন আলম’ নামের ওই পাম্পটি থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১০টা ২০ মিনিটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে পাম্পটি ছাড়াও পাশের আদর্শগ্রাম ও চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকার ১০টি বসতবাড়ি এবং পর্যটকদের পরিবহনে ব্যবহৃত ২৫টির মতো জিপ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাত ৩টার দিকে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও রেডক্রিসেন্টের যৌথ প্রচেষ্টায় ৫ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিস্ফোরণে দগ্ধ ১৬ জনের মধ্যে ৭ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং গুরুতর ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুকতাগিন মাহমুদ সোহেল জানান, আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে ৬ জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত ফিলিং স্টেশনটির কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না। গ্যাস লিকেজ থেকেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। তিনি আরও জানান, প্রায় ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্যাংকের গ্যাস সম্পূর্ণ নিঃশেষ হওয়ার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। অবৈধভাবে পাম্প পরিচালনার দায়ে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘটনার আগে গ্যাসের তীব্র গন্ধে পুরো এলাকায় শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ঘনবসতিপূর্ণ জেলখানা ও চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করেন, যারা এই বিস্ফোরণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
–লামিয়া আক্তার










