আপিল বিভাগে পিলখানা হত্যা মামলা: দ্রুত শুনানির অপেক্ষায় জাতি

রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আজও ঝুলে আছে। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা এই চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত রায়ের পথ প্রশস্ত করছে।

আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ ইতিমধ্যেই তাদের আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছেন। আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী এবং বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটি শুনানির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ৬৬৯ নম্বর ক্রমিকে ছিল। এখন ক্রমানুসারে যেকোনো দিন নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি শুরু হতে পারে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের নিয়মিত কার্যতালিকায় মামলাটি ৬৬৯ নম্বর ক্রমিকে ছিল। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে এটি প্রথম আপিল বিভাগের নজরে আসে। বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষ-উভয়ই তাদের আপিলের সারসংক্ষেপ (কনসাইজ স্টেটমেন্ট) জমা দিয়েছে। আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী এবং বর্তমান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটি এখন শুনানির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

২০১৭ সালের নভেম্বরে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার বিশাল পূর্ণাঙ্গ রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশের আমূল পরিবর্তন ও সংশোধন আসে:

মৃত্যুদণ্ড: ১৩৯ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রাখা হয়।

যাবজ্জীবন: ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

কারাদণ্ড: বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পান ২২৮ জন।

খালাস: অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২৮৩ জন খালাস পান।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুই পক্ষই সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

আসামিপক্ষ: দণ্ডপ্রাপ্ত ২২৬ জন আসামির পক্ষে মোট ৭৩টি আপিল ও লিভ টু আপিল জমা পড়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ: যাদের সাজা কমানো হয়েছে বা যারা খালাস পেয়েছেন, এমন ৮৩ জন আসামির দণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ২০টি লিভ টু আপিল করেছে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল-একটি হত্যা মামলা এবং অন্যটি বিস্ফোরক আইনের মামলা। হত্যা মামলাটি আপিল বিভাগে থাকলেও, বিস্ফোরক আইনের মামলাটি দীর্ঘ ১৭ বছরেও বিচারিক আদালতে (নিম্ন আদালত) সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে আটকে আছে। এই মামলার বিচার দ্রুত শেষ না হওয়ায় অনেক আসামি হত্যা মামলায় খালাস বা জামিন পেয়েও কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহের নামে নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়। এতে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটি দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম আইনি লড়াই হিসেবে পরিচিত। ২০১৩ সালে নিম্ন আদালত প্রথম রায় দেন, যার ধারাবাহিকতায় আজ মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দ্বারপ্রান্তে।

লামিয়া আক্তার