জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করা হবে না বলে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক আওয়ামী লীগ নেতার জামিনকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচারে আমরা কেউই কোনো ক্ষেত্রে আপস করবো না। করার কোনো সুযোগও নেই। এটি শতাব্দীতে এক-দুবার ঘটে। ৫৪ বছর পর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার যে সুযোগ এসেছে, তা ১৪০০ শহীদের রক্তের বিনিময়ে। এর অপব্যবহার হলে আমরা সবাই দায়ী থাকবো।”
ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাত্র দুটি ট্রাইব্যুনাল, একটি প্রসিকিউশন টিম ও একটি তদন্ত সংস্থা দিয়ে ৬৪ জেলায় সংঘটিত গণহত্যার বিচার চলছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রায় দুই শতাধিক আসামির বিচার শুরু করা সম্ভব হয়েছে। কতদূর এগোতে পারবো জানি না, তবে চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই।”
জুলাই হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী ব্যবসায়ী ও সংস্কৃতিকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষণার প্রসঙ্গে তামিম বলেন, “তারা অভিযোগ নিয়ে এলে আমরা দ্রুত তদন্ত শুরু করবো এবং বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দফা দাবির বিষয়ে তিনি জানান, দাবিগুলোর একটি হলো বিচার ত্বরান্বিত করতে বিশেষ তদন্ত টিম ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন। বলেন তিনি, “এটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আমরা শিগগিরই তাদের এই দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দেবো এবং আশা করছি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।”
এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের দেড় বছরে এই প্রথম কোনো আসামি জামিন পেয়েছেন।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। সাধারণত অভিযোগের ঘাটতি থাকলে বা মানবিক কারণে জামিন দেওয়া হয়। এই আসামি আগেও দুবার জামিন চেয়েছিলেন, যা নামঞ্জুর হয়েছিল। তৃতীয়বারে কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালের স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গুরুতর অসুস্থতার কথা বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে জামিন দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনে শর্ত আরোপ করেই আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন।”
-মীর মোমিন










