ফিলিপাইনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রোদ্রিগো দুতের্তের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগের শুনানি শুরু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। চারদিনব্যাপী এই “অভিযোগ নিশ্চিতকরণ” শুনানি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হবে এবং এতে নির্ধারণ করা হবে দুতের্তের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে কি না, যাতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকের সামনে হাজির করা যায়। খবর আলজাজিরার।
৮০ বছর বয়সী প্রাক্তন নেতাকে আদালতে হাজির থাকার সুযোগ থাকলেও, আদালত তার অনুপস্থিতি মঞ্জুর করেছে। শুনানির পর বিচারকদের ৬০ দিনের মধ্যে লিখিত রায় দেওয়ার সময় রয়েছে।
এই মামলা দুতের্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে ধরা হচ্ছে, যিনি বারবার আইসিসি-কে কটাক্ষ করেছেন। একই সঙ্গে এটি তার কঠোর ড্রাগ যুদ্ধের সময় নিহতদের পরিবার এবং বেঁচে থাকা শিকারদের জন্য ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ শুনানিকে “ফিলিপাইনের ড্রাগ যুদ্ধের শিকারদের জন্য ন্যায় নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ন্যায়ের প্রত্যাশা
২০১৭ সালে দুয়ের ছেলে নিহত হওয়া লোরা পাসকো বলেন, “প্রাক্তন প্রেসিডেন্টসহ যারা এই ‘ড্রাগ যুদ্ধ’-এ জড়িত, তাদের সবাইকে দায়িত্বশীল করা খুব জরুরি। এটি সত্যিকার মুহূর্ত, আমরা সবাই আশা করি আইসিসি ও বিচারকরা শিকারদের কণ্ঠ শুনবেন।” ১৯ বছর বয়সী পুত্রের মা লুজভিমিন্ডা সিয়াপো বলেন, “আমি আশা করি অন্যান্য অপরাধীরাও ন্যায়ের মুখোমুখি হবেন।”
অভিযোগের বিস্তারিত
আইসিসির প্রসিকিউটররা দুতের্তকে তিনটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৭৬টি হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি বা সহযোগী ভূমিকা ছিল।
প্রথম অভিযোগ: ২০১৩-২০১৬ সালে ডাভাও সিটির মেয়রের পদে থাকা অবস্থায় ১৯টি হত্যায় সহযোগীতা।দ্বিতীয় অভিযোগ: ২০১৬-২০১৭ সালে “উচ্চ প্রাধান্যসম্পন্ন লক্ষ্য” হিসেবে ১৪টি হত্যাকাণ্ড। তৃতীয় অভিযোগ: ২০১৬-২০১৮ সালে দেশব্যাপী নিম্নস্তরের অভিযুক্ত ড্রাগ ব্যবহারকারী বা পুশারদের বিরুদ্ধে ৪৩টি হত্যাকাণ্ড।
দুতের্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী নিকোলাস কফম্যান সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করেন না এবং তার কাজের গৌরব বোধ করেন।
আদালতে উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া
দুতের্তকে গত বছর মার্চে মানিলায় গ্রেফতার করে নেদারল্যান্ডসে আনা হয় এবং সেখান থেকে আইসিসির আটককক্ষে রাখা হয়েছে। প্রথম শুনানিতে তিনি ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে অংশ নেন। এরপর আদালতে পাঠানো চিঠিতে তিনি আদালতের এখতিয়ার অস্বীকার করেন এবং বলেন, তাকে “অবৈধভাবে আটকানো হয়েছে”। ফিলিপাইনস ২০১৯ সালে আইসিসি ত্যাগ করলেও, আদালত ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সংঘটিত অপরাধের জন্য এখতিয়ার বহাল রেখেছে। দুতের্ত ফিলিপাইনসের মধ্যে জনপ্রিয়, যেখানে অনেকেই তার কঠোর অপরাধ বিরোধী নীতিকে সমর্থন করেছেন। মঙ্গলবার দ্য হেগে দুটি র্যালি অনুষ্ঠিত হবে—একটি দুতের্তের সমর্থনে, আরেকটি শিকারদের পাশে।
-বেলাল










