শিশুদের চোখে মুখে রমজান এলে অন্যরকম আনন্দ আর উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ভোররাতে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে সে ও জাগতে চেষ্টা করে, সাহরি খেয়ে রোজা রাখার চেষ্টা করে। ইফতারে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি, সাহরিতে ঘুম থেকে ওঠার রোমাঞ্চ— সব মিলিয়ে শিশুদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। আর শিশুর প্রথম রোজা যেন নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর হয় সেই দায়িত্ব অভিভাবকদের।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত ৭–১০ বছর বয়সে শিশুদের ধীরে ধীরে রোজার সঙ্গে পরিচিত করতে পারেন। শিশুর শারীরিক সক্ষমতা, ওজন ও পুষ্টিগত অবস্থা এবং দৈনন্দিন রুটিনের ওপর রোজা রাখার বিষয়টি নির্ভর করবে।
শুরুতেই পুরো রোজা না রেখে শিশুকে হাফ রোজা বা দুপুর পর্যন্ত রোজা রাখার অভ্যাস করানো ভালো। এতে শিশুর স্বাস্থ্যের হঠাৎ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
সাহরিতে শিশুকে যা খাওয়াবেন : শিশুর জন্য সাহরি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার খাদ্যতালিকায় রাখুন ভাত/রুটি, ডিম, দুধ, দই, কলা, আপেল, পর্যাপ্ত পানি। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ঝাল ও ফাস্টফুড, বেশি চিনি দেওয়া খাবার এড়িয়ে চলুন। একসঙ্গে অনেক খাবার না দিয়ে শিশুকে পরিমিত খাবার খেতে দিন।
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হবেন : রোজা রাখা অবস্থায় শিশুর মধ্যে এসব লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হোন— অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, অস্বাভাবিক নিস্তেজতা এসব লক্ষণ দেখা দিলে রোজা ভেঙে দেওয়াই উত্তম। কারণ স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে রোজা রাখা পরবর্তীতে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
শিশুর জন্য রোজা কোনো প্রতিযোগিতা নয়। এটি শেখার, অভ্যাস গড়ার এবং আত্মসংযম বোঝার সময়। সুস্থ, নিরাপদ ও আনন্দময় হোক শিশুর প্রথম রোজা।
মাহমুদ সালেহীন খান










